খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মানুষের অধিকার রক্ষার কথা বললেও নিজ স্বার্থে তিনি প্রতিবেশীদের মৌলিক অধিকারকে হরণ করেছেন। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলোঘর ইউনিয়নের ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় তার পৈতৃক নিবাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারি রাস্তার বিদ্যমান সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিবেশীদের উচ্ছেদ করে নতুন একটি রাস্তা নির্মাণ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, এই রাস্তার কোনো বাস্তবিক প্রয়োজন ছিল না। রাস্তাটি নির্মাণের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং ৪০২ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তার প্রস্তাবনায় ১২ ফুটের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে কিছু অংশে ১৬ থেকে ১৯ ফুট পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
| বিষয় | অনুমোদিত মাপ | বাস্তবিক নির্মিত মাপ | খরচ (টাকা) |
|---|---|---|---|
| দৈর্ঘ্য | ৪০২ মিটার | ৪০২ মিটার | ১ কোটি |
| প্রস্থ | ১২ ফুট | ১৬–১৯ ফুট | অন্তর্ভুক্ত |
| নির্মাণ ঠিকাদার | – | ওরিও কনস্ট্রাকশন | – |
স্থানীয় সূত্র এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আদিলুরের পরিবার সেখানে বসবাস করেন না। ষোলোঘর বাসস্ট্যান্ড থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ ফুটের রাস্তা রয়েছে। তবু নিজের সুবিধার জন্য প্রতিবেশীদের ঘর উচ্ছেদ করে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রতিবেশী রুবেল অভিযোগ করেছেন, “ষোলোঘর বাসস্ট্যান্ড থেকে শাখা রাস্তাটি ১০ ফুট হলেও তিনি নিজের বাড়িতে ঢোকার জন্য ১৭ ফুট রাস্তা করেছেন। আমাদের ঘর ভেঙে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি লিজ সম্পত্তির সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। পরে সংবাদ প্রকাশের পর তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “এটা আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। আমাদের বাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।”
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, “এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ বছর আগে একটি রাস্তা ছিল। সেক্ষেত্রে নতুন রাস্তার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু উপদেষ্টা নিজের স্বার্থে প্রতিবেশীদের ঘর উচ্ছেদ করে তা নির্মাণ করেছেন।”
ঠিকাদার সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, “প্রাথমিক অনুমোদন ১২ ফুটের হলেও গাড়ি চলাচলের সুবিধার জন্য কিছু অংশে ১৬–২০ ফুট করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও প্রকল্প পরিচালকের অনুমোদনে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাড়তি কাজের টাকা এখনও পাইনি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য তদারকি করেছি। জেলা প্রকৌশলী এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।”
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী সময়ের কারণে সরাসরি মন্তব্য করতে পারেননি। আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা সফল হয়নি।