সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের জীবনাবসান

দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান আর নেই। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। তার ছোট ছেলে হাসিব মাহমুদ খান অনিন্দ্য গণমাধ্যমকে জানান, ব্রেন স্ট্রোক করার পর বেশ কিছু দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও মঙ্গলবার দুপুরে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং সন্ধ্যায় তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।


বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও শিক্ষা জীবন

আব্দুল মান্নান খান ছিলেন একাধারে তুখোড় ছাত্রনেতা, বিজ্ঞ আইনজীবী এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। তার বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয় বিবরণ
জন্ম ও পরিচয় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট আইনজ্ঞ।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং এলএলবি ডিগ্রি।
উচ্চতর ডিগ্রি রাশিয়ার মস্কো কসমল ইনস্টিটিউট থেকে পলিটিক্যাল ইকোনমি ও বিশ্ব রাজনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি।
ছাত্র রাজনীতি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন।
আওয়ামী লীগে পদ তিনবার দপ্তর সম্পাদক, দুই মেয়াদে সভাপতিমণ্ডলী ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।
সংসদীয় আসন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ), নবম জাতীয় সংসদ।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সাবেক প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
পেশাগত সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি।

উন্নয়ন ও অবদানের স্মৃতি

আব্দুল মান্নান খান কেবল একজন রাজনীতিবিদে সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আধুনিক দোহার-নবাবগঞ্জের রূপকারদের একজন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—গৃহায়ণ ও গণপূর্তের দায়িত্ব পান। তার মেয়াদে এই অঞ্চলে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়।

বিশেষ করে ঢাকার উপকণ্ঠের অবহেলিত জনপদগুলোকে মূল ধারার সাথে সংযুক্ত করতে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি রাশিয়া-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সভাপতি হিসেবে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

শোক ও শেষ বিদায়

তার আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার জানাজার নামাজ ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুতই জানানো হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তার বিদায়ে দোহার ও নবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে, কারণ তারা হারিয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের অভিভাবক ও একজন খাঁটি জননেতাকে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।