খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকার সাভারে ভয়াবহ সাপের কামড়ে ছয় বছর বয়সী শিখা মনি নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্যাংক টাউনের নামা গেন্ডা বটতলা এলাকায় শিশুটি বাড়ির পাশের ঘাসের মধ্যে খেলতে গিয়ে সাপের আক্রমণের শিকার হয়। আহত শিশুটি সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের তাড়াহুড়া নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের অভাবে তার জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শিখা মনি ছিলেন সাভারের নামা গেন্ডা বটতলা এলাকার দুবাই প্রবাসী জহুরুল ইসলামের কন্যা। শিশুটির মা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। কামড়ের পর প্রথমে শিশুটিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে আশ্বাস দেন যে দুই বেলার মধ্যে শিশুটি সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু আশঙ্কার বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না, কারণ শিশুর অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে ধাবিত হয়।
পরবর্তী সময়ে শিশুকে নেওয়া হয় সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, অতি জরুরি ভিত্তিতে শিশুটিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়া প্রয়োজন। সময়ের তাড়াতাড়ি ও ঢাকার যানজটের কারণে শিশুটি সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। পরে মহাখালী ও ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ভ্যাকসিনের অভাবের কারণে কোন সাহায্য সম্ভব হয়নি। অবশেষে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের নানী শাহনাজ বেগম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের একমাত্র কন্যা খেলার সময় সাপের কামড়ে আহত হয়েছে। এত বড় দেশে অ্যান্টিভেনমের অভাব দেখে আমরা হতবাক। শেষ মুহূর্তে মায়ের সঙ্গে থাকা ছাড়া শিশুটি আর কিছু অনুভব করতে পারেনি।”
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাশ মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতি সতর্ক করছেন। তারা বলছেন, দেশে প্রতিটি হাসপাতালেই জরুরি অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন করুণ মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়। সাভার ও ঢাকার হাসপাতাল ব্যবস্থার এই দুঃখজনক ব্যর্থতা দেশবাসীর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।