খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদি বলেছেন, ‘ছাত্র-উপদেষ্টা স্যারেরা, হামিদকে ছেড়ে দেওয়ার দায়ে আপনারা তিন দিনের মধ্যে পদত্যাগ করুন।’
বৃহস্পতিবার (৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন হাদি।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আছেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ইঙ্গিত করে এই পোস্ট দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র।
পোস্টে হাদি লিখেন, ‘ছাত্র-উপদেষ্টা স্যারেরা, হামিদকে ছেড়ে দেওয়ার দায়ে আপনারা তিন দিনের মধ্যে পদত্যাগ করুন।’
তিনি আরও লিখেন, ‘পর আমরা ইন্টেরিমের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব। হয় গণহত্যার বিচার ও ফ্যাসিস্ট লীগ নিষিদ্ধ হবে, নয়তো ইন্টেরিম বিদায় নেবে। এই দায় থেকে বাঁচার জন্য আপনাদেরকে আমরা সময় দিলাম। যদি সুযোগ গ্রহণ করে আমাদের কাতারে আসেন, তাইলে সম্মান পাবেন। আর যদি চেয়ার ছেড়ে দিতে কান্না পায়, তাইলে এরপর থেকে আপনাদেরকে ‘তুই’ বলা শুরু হবে! সঙ্গে বঙ্গীয় গাইল।’
এর আগে সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরেকটি পোস্ট করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র।
সেখানে তিনি উল্লেখ লিখেন, হামিদরেও বিদেশে পাড় কইরা দেওয়া হইছে! বাকিরাও কয়দিন পর জেল থেকে বের হয়ে নির্বাচন করবে!
তিনি আরও লিখেন, যদি কাফনের কাপড় পরে জীবন বাজি রেখে সচিবালয় ঘেরাওয়ের চূড়ান্ত ডাক দিই আমরা, কে কে আসবেন?
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র লিখেন, যারা নিশ্চিত করবেন, তাদের নামের তালিকা করে আমরা রাজপথে নামবো। এভাবে আর চলে না! আমরা বাঁইচা রইছি শহিদ হওয়ার জন্যই!
এদিকে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরে আসতে বললেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন তাজনূভা জাবীন।
তাজনূভা জাবীন লিখেন, এনসিপির কেউ না, জুলাইয়ের আগের সাধারণ জনগণের কাতারের তাজনূভা হয়ে বলছি, মাহফুজ আর আসিফের সরকার থেকে সরে আসা উচিত। সরে এসে আবার রাজপথে জনগণের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তারা যে সরকারের অংশ, সে সরকার আর অভ্যুত্থানপন্থী নাই। আপনাদের আর মানাচ্ছে না ওখানে। সরে এসে জনগণকে আশ্বস্ত করেন। জুলাইয়ের শহীদদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
তিনি আরও লিখেন, আমিই এত মর্মাহত, শহীদ-আহতদের কেমন লাগছে, তাদের চোখের সামনে আসামিরা দাপটের সাথে মাথা উঁচু করে পালাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমাদেরকে আবার রাজপথে এক হতে হবে আওয়ামী লীগ প্রশ্নে। কারণ, জুলাই শেষ হয় নাই, আদতে জুলাই এখনও চলছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী। অনেকেই ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন। এতদিন দেশে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত দেশ ত্যাগ করলেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রায় ৯ মাস পর, বুধবার (৭ মে) দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩৪০ ফ্লাইটে ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সূত্র জানায়, রাত ১১টার দিকে আবদুল হামিদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে রিয়াদ আহমেদ এবং শ্যালক ড. এএম নওশাদ। ইমিগ্রেশনে সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষে তিনি দেশত্যাগের অনুমতি পান।
জানা গেছে, আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্রীয় বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার কাছে সরাসরি অভিযোগ ছিল না।
উল্লেখ্য, মো. আবদুল হামিদ ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খবরওয়ালা/এসআর