খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত স্বায়ত্তশাসনমূলক সংশোধনী বাতিল হওয়ায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সোমবার দুপুরে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভা থেকে তাঁরা এই দাবি তোলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে নীতিগত অঙ্গীকার থেকে সরে এসে অর্থ উপদেষ্টা দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছেন—যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও আর্থিক খাতের সুশাসনের পরিপন্থী।
সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই তা বাতিল করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা অতীতে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন; অথচ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মত দিয়েছেন। “এই অবস্থানগত অসংগতির দায় নিয়ে তিনি অন্তত এক দিনের জন্য হলেও পদত্যাগ করুন—এটাই আমাদের নৈতিক দাবি,” বলেন তিনি।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন ও সক্ষম কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ব্যাংকিং তদারকি জোরদার, মুদ্রানীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে তারল্য চাপ, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, শাসন ঘাটতি ও নীতিনির্ধারণে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ জনআস্থাকে দুর্বল করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি ক্ষমতা ও কার্যকর স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য বলে বক্তারা মত দেন।
সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ লিখিত বক্তব্যে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত ও আইনি কাঠামো সুসংহত করতে ৯ অক্টোবর সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়; তার আগেই অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল অর্থ উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নানা কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আর্থিক খাতের সংস্কার ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া বিকল্প নেই।
বক্তারা জানান, আসন্ন নির্বাচনে এগিয়ে থাকা প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের ইশতেহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে যে দলই সরকার গঠন করুক, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধনী কার্যকর করার জন্য তারা নির্বাচনের পর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
নিচে প্রস্তাবিত সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সংস্কার ক্ষেত্র | প্রস্তাবিত পরিবর্তন | প্রত্যাশিত প্রভাব |
|---|---|---|
| প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা | প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সীমিতকরণ | নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি |
| নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি | ব্যাংক তদারকিতে আইনি ক্ষমতা জোরদার | খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা |
| গভর্ন্যান্স | বোর্ড ও ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব | রাজনৈতিক প্রভাব কমানো |
| জবাবদিহি কাঠামো | প্রতিবেদন ও অডিট কাঠামো শক্তিশালী | জনআস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি |
কর্মকর্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়িত না হলে আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সংস্কার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হবে। তাঁদের মতে, নীতিগত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার দায় স্বীকার করে সংশোধনীর পথ উন্মুক্ত করাই বর্তমান সংকট উত্তরণের বাস্তবসম্মত উপায়।