খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে ফসল রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের কারণে বাঁধ কাটা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুরে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বাঁধ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর, সরদারপুর ও জয়নগর এবং কাঠইর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, উলুতুলসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা ফসলি জমি নিয়ে উদ্বিগ্ন। টানা কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, ফলে ধান এবং অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য গতকাল শুক্রবার নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন বাঁধ কাটার উদ্যোগ নেন। তবে মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দারা এতে আপত্তি জানালে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাঁধ এলাকা পরিদর্শনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন এবং তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
কিন্তু বৈঠকের আগেই নোয়াগাঁও ও আশপাশের গ্রামের কিছু বাসিন্দা বাঁধ কেটে ফেলেন। এই সময়ে মোহনপুর ও আশপাশের এলাকার লোকজন বাঁধ কাটতে বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, “বাঁধ কেটে হাওরের একাংশের ফসল রক্ষা হলেও অন্য অঞ্চলের ফসলের ক্ষতি হবে। এই দ্বন্দ্ব থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।”
সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, “পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
নিচের টেবিলটি সংঘর্ষে জড়িত অঞ্চলের মূল তথ্য এবং প্রভাবিত গ্রামগুলোকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:
| ইউনিয়ন | গ্রাম | সংঘর্ষে ভূমিকা | ফসলের ঝুঁকি | আহত সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|
| মোহনপুর | মোহনপুর, সরদারপুর, জয়নগর | বাঁধ রোধ | ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা | ১৫ |
| কাঠইর | নোয়াগাঁও, উলুতুল | বাঁধ কেটে জল ছেড়ে দেওয়া | ফসল রক্ষা সম্ভাবনা | ১৫ |
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে। আগামী কয়েকদিনে বাঁধ এবং হাওরের পানি পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে নতুন কোনো সংঘর্ষ এড়ানো যায়।
এই ঘটনা সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চলের পানি নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার চ্যালেঞ্জকে প্রকাশ করেছে। স্থানীয়দের মতে, সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া একই হাওরে থাকা বিভিন্ন গ্রামের ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সংঘর্ষে যে এলাকায় বাঁধ কাটা হয়েছে, সেখানকার কৃষকরা এখনো সতর্ক এবং প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী চলার জন্য প্রস্তুত।