খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
ঢাকার সাভারে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত ২৪ ঘণ্টার এক বিশেষ যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুর থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সাভারের বেদে পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সুনির্দিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত (গ্রেফতারি পরোয়ানা) আসামি ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামকে (২৮) গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযানে নামে। রফিকুল ইসলাম সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারপুর পোড়াবাড়ি এলাকার মো. আব্দুর রহিমের ছেলে।
সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে বক্তারপুর বালুর মাঠ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ সদস্যরা রফিকুল ইসলামকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালান। এই সময় রফিকুল ইসলাম চিৎকার করে তাঁর সহযোগীদের ডাকাডাকি করলে ঘটনাস্থলে অর্ধশতাধিক স্থানীয় লোক জড়ো হয়। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগীরা পুলিশের আইনগত অভিযানে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তা অমান্য করে। রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এসএম শামীম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমানের ওপর লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। মারধরের কারণে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপর পুনরায় আক্রমণ করে। একই সাথে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় কোনো আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা করলে পুলিশকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি প্রদান করা হয়। পরবর্তী সময়ে সাভার মডেল থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা স্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সদস্যরা আহত এসআই এসএম শামীম ও এএসআই মশিউর রহমানকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পরপরই ঢাকা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় সাভার মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং অপরাধীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করে। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত টানা অভিযানে সাভারের বেদে পাড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে পুলিশের ওপর হামলা মামলার এজাহারভুক্ত ৫ প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত এজাহারভুক্ত ৫ আসামি হলেন:
১. আরিফুল ইসলাম (২০): সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর এলাকার মো. রতনের ছেলে।
২. সাগর মিয়া (২৩): একই এলাকার মো. মহির উদ্দিনের ছেলে।
৩. মো. মারুফ (২০): বক্তারপুর তিন রাস্তার মোড় এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে।
৪. মো. হুমায়ুন (১৯): পোড়াবাড়ি এলাকার মো. হাসানের ছেলে।
৫. মো. রাকেশ মাল (৩০): বক্তারপুর এলাকার বাবুলের ছেলে।
এছাড়াও এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যা, মাদক ব্যবসা, চুরি, হত্যাচেষ্টা মামলা এবং আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আরও ১৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ জনে।
নিচে সাভার মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানের বিবরণ টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় / ক্যাটাগরি | সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও তথ্য |
| মূল ঘটনার তারিখ ও সময় | ৯ জুন, সন্ধ্যা ৭:৪০ ঘটিকা |
| মূল ঘটনার স্থান | বক্তারপুর বালুর মাঠ সংলগ্ন এলাকা, সাভার |
| আহত পুলিশ সদস্যবৃন্দ | এসআই এসএম শামীম ও এএসআই মশিউর রহমান |
| আহতদের চিকিৎসালয় | এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাভার |
| অভিযানের সময়কাল | বুধবার (১০ জুন) দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোর পর্যন্ত |
| প্রধান অভিযানের স্থান | সাভার বেদে পাড়া ও আশপাশের এলাকা |
| মোট গ্রেফতারকৃত আসামি | ২৪ জন |
| হামলা মামলার এজাহারভুক্ত গ্রেফতার | ০৫ জন |
| অন্যান্য অপরাধে গ্রেফতার (হত্যা, মাদক, চুরি, ওয়ারেন্ট) | ১৯ জন |
সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।