খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিঙ্গাপুরের করপোরেট অঙ্গনে দ্রুত প্রবৃদ্ধির নতুন মানচিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে নির্মাণ ও প্রকৌশল, ফিনটেক এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতকে ঘিরে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই তিন খাতের কোম্পানির অংশই সর্বাধিক—মোট তালিকার প্রায় ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাই এখন সিঙ্গাপুরের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
২০২১ থেকে ২০২৪—এই চার বছরে যেসব প্রতিষ্ঠান রাজস্বে ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তাদের নিয়েই প্রকাশিত হয়েছে ‘সিঙ্গাপুরস ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং কোম্পানিস’ তালিকা। তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য কয়েকটি কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুরে থাকতে হবে, ২০২১ সালে ন্যূনতম ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ২০২৪ সালে কমপক্ষে ১৫ লাখ ডলার রাজস্ব অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি, এই আয় অবশ্যই কোম্পানির নিজস্ব কার্যক্রম ও সম্পদ থেকে আসতে হবে; একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ বা অংশীদারিত্বজনিত আয় এতে গণ্য হয়নি।
২০২৬ সালের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে সৌর প্রকৌশল, নির্মাণ ও প্রোকিউরমেন্ট প্রতিষ্ঠান ক্লিন কাইনেটিকস। ২০২১ সালে যেখানে তাদের রাজস্ব ছিল মাত্র ৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলার, সেখানে ২০২৪ সালে তা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে—প্রায় ৪২ গুণ বৃদ্ধি। চার বছর আগে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে প্রায় ১৮০টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১৪ হাজারের বেশি সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭৮ গিগাওয়াট-ঘণ্টা সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট প্রায় ১৮ হাজার ফ্ল্যাটের এক বছরের চাহিদা পূরণ করা যায়।
একই খাতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম কনেক্সাস স্টুডিও। অফিস ইন্টেরিয়র ও ফিট-আউট সেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ২০২১ সালে ১ কোটি ৩৮ লাখ ডলার থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বিবিসি স্টুডিওস, হিটাচি এশিয়া ও সনির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের বাজারে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মহামারির সময় স্থগিত থাকা প্রকল্প পুনরায় শুরু হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার দিকে গ্রাহকদের মনোযোগ বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
এ বছরের তালিকায় ফিনটেক খাতের কোম্পানি রয়েছে ১৩টি, যা আগের বছরের তুলনায় একটি বেশি। প্রথমবারের মতো তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বিনিয়োগ প্ল্যাটফরম সাইফ (Syfe)। ২০২১ সালে ১৭ লাখ ডলার রাজস্ব থেকে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ডলারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগদ অর্থ অলস না রেখে কার্যকর বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ায় এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফরম দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।
এ ছাড়া গ্রোথ ফাইন্যান্সিং প্ল্যাটফরম চোকো আপ-ও তালিকায় নতুন সংযোজন। ই-কমার্স ও আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের বিস্তারের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের চাহিদা বাড়ছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
| প্রতিষ্ঠান | খাত | ২০২১ সালের রাজস্ব (ডলার) | ২০২৪ সালের রাজস্ব (ডলার) | প্রবৃদ্ধি |
|---|---|---|---|---|
| ক্লিন কাইনেটিকস | নির্মাণ ও সৌর প্রকৌশল | ৩,৬৫,০০০ | ১৫,৩০০,০০০ | ~৪২ গুণ |
| কনেক্সাস স্টুডিও | নির্মাণ ও ইন্টেরিয়র | ১৩,৮০০,০০০ | ৪৫,০০০,০০০ | ~৩.৩ গুণ |
| সাইফ (Syfe) | ফিনটেক | ১,৭০০,০০০ | ১২,৪০০,০০০ | ~৭ গুণ |
| চোকো আপ | ফিনটেক | ৪,৬০০,০০০ | ৬,৯০০,০০০ | ~১.৫ গুণ |
সব মিলিয়ে, এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়—সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি এখন শুধু পরিমাণগত নয়, গুণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও এগোচ্ছে। টেকসই অবকাঠামো, ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানই ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে।