খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শিক্ষা মানুষের মেধা ও মননকে বিকশিত করার পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। সেই শিক্ষার কারিগররা যখন স্বীকৃতি পান, তখন গর্বিত হয় গোটা সমাজ। এমনই এক গৌরব বয়ে এনেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. নূরজাহান আখতার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সিলেট বিভাগে প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তিনি।
বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিষ্ঠা, নেতৃত্বের দক্ষতা, মানবিক গুণাবলী, একাডেমিক উৎকর্ষতা, ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও সামাজিক অবস্থানসহ মোট ১০টি সূচকে মূল্যায়ন করা হয়। এই মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের মধ্যে নূরজাহান আক্তার অর্জন করেছেন ৯৭ নম্বর।
রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, নূরজাহান আখতার শুধু তাদের শিক্ষকই নন, তিনি একজন অভিভাবকের মতো। নিয়মিত ক্লাসের বাইরে থেকেও তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেন। বিদ্যালয়ে সৃজনশীল ও আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

এক শিক্ষার্থী বললো, “ম্যাডাম শুধু পড়াশোনাই শেখান না, আমাদের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেন।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ বলেন, “নূরজাহান ম্যাডামের নেতৃত্বে আমাদের স্কুলের পরিবেশ বদলে গেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। তাঁর আন্তরিকতা আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।”
এলাকাবাসীর অনেকে জানান, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি সবসময় এগিয়ে থাকেন। তাঁর মতো একজন শিক্ষক জাতীয় পর্যায়েও সম্মাননা পাওয়ার যোগ্য।
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন নিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। নূরজাহান আক্তার বলেন, ‘এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। আমি চাই, প্রত্যেক শিশু যেন মানসম্মত শিক্ষা পায় এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।’

শিক্ষক সমাজের জন্য এ ধরনের স্বীকৃতি শুধু একজনের নয়, বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অনুপ্রেরণা। নূরজাহান আখতারের এই প্রাপ্তি প্রমাণ করে—শিক্ষার্থীর মন জয় করা, শিক্ষা ব্যবস্থায় নিষ্ঠা ও মানবিকতার চর্চা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
খবরওয়ালা/এমএজেড