খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ ও বারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে নারীসহ মোট ১৪০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৭ জন নারী রয়েছেন। অভিযানে বারটির ভেতরে থাকা বিভিন্ন কক্ষ ও কার্যক্রমের বিষয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযানটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোর ৪টা পর্যন্ত উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড়সংলগ্ন ‘কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ এলাকায় পরিচালিত হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁও জনপথ রোডের একটি ভবনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় দীর্ঘদিন ধরে রেস্তোরাঁর আড়ালে বার পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে মদ্যপানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম চলত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পঞ্চম তলায় একাধিক কক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান। এছাড়া বারটিতে বিভিন্ন বয়সী পুরুষ ও নারীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অভিযানের সময় বারটিতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাওয়া যায়। কিছু ব্যক্তিকে মদ্যপ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে।
এ সময় বারটির ভেতরে থাকা কিছু ব্যক্তি টয়লেট, বারান্দা, সোফা ও রান্নাঘরে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। পরে তাদের আটক করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ। এতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বারটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমতি ছিল না। পাশাপাশি পর্যটন করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই সেখানে মদ কেনাবেচা চলত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীর অবাধ যাতায়াত ছিল এবং রাতভর কার্যক্রম চলত।
উত্তরা বিভাগের ডিসি মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন বার পরিচালনার অভিযোগে ১৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বারেও অভিযান চালানো হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
অভিযান চলাকালে উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আরিফুল ইসলাম, উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুজ্জামান, পরিদর্শক (অপারেশন) মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।