Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
থাইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশে আকস্মিকভাবে কারফিউ জারি করা হয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছে।
থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। কারফিউ কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি বলেন, কম্বোডিয়া শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করলে আলোচনার টেবিলে বসা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে থাইল্যান্ড কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে চাচ্ছে।
এই সংঘাত নতুন নয়। চলতি বছরের মে মাসে সীমান্তে সংঘর্ষে এক কম্বোডীয় সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই পুরোনো বিরোধ আবার মাথাচাড়া দেয়। ঐ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা ধীরে ধীরে বেড়েছে এবং উভয় দেশই অতিরিক্ত সেনা ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করেছে। ফলস্বরূপ, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো থেকে কয়েক লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
শনিবার থাই সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করেছে, যা ব্যবহার করে কম্বোডিয়া ভারী অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছিল। পাশাপাশি কম্বোডিয়ার কোহ কং প্রদেশে আগে থেকেই স্থাপিত কামান লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তবে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, থাইল্যান্ড বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।
কারফিউ ত্রাত প্রদেশের পাঁচটি সীমান্তবর্তী জেলায় কার্যকর হলেও জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ কোহ চ্যাং ও কোহ কুডকে এর বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে পর্যটন শিল্প পুরোপুরি ধসে না পড়ে। এর আগে সাকেও প্রদেশে জারি করা কারফিউ এখনো বহাল রয়েছে, যা পরিস্থিতির গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা নয়; এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে গোলাগুলি থামেনি, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।