খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবাইদে একটি জানাজায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। সুদানের জাতিসংঘ কার্যালয়ের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের দ্য অফিস ফর দ্য কোঅর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) করদোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবাইদে এই হামলা চালানো হয়। হামলার সময়সূচি এবং দায়িত্বরত পক্ষ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে আরব আমিরাত সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এই হামলার পেছনে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এল-ওবাইদ শহরটি বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ওসিএইচএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘করদোফান অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। আমরা সকল পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তেল সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। গত সপ্তাহে আরএসএফ এল-ওবাইদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে বারা শহর দখল করে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ এল-ওবাইদে আশ্রয় নিয়েছে।
একই সময়ে আরএসএফ উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশেরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এখানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশ হয়েছে। এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বহু মানুষ এল-ফাশের ও আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এল-ফাশের থেকে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়েছে।
সুদানে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এল-ফাশের দখলের পর মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, দারফুরের এল-ফাশের ও করদোফানের কাদুগলিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। অপরদিকে সুদানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছে, আরএসএফের বিরুদ্ধে জনগণকে সর্বাত্মক প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দারফুরে যুদ্ধে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এল-ফাশের থেকে পালিয়ে আসা হাজারো মানুষ উত্তর দারফুরের তাউইলা শহরের চিকিৎসা কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এই মানুষদের চোখে-মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সুদানে দুই কোটির বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে এবং অন্তত ৩ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ চরম অনাহারে মৃত্যুর মুখে রয়েছে। শহরগুলো এখনও অবরুদ্ধ থাকায় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
মঙ্গলবার দোহায় এক সম্মেলনে গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, সুদানের সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এল-ফাশের ও আশপাশের এলাকা মানবিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে লাখো মানুষ খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাহীন অবস্থায় আটকা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘সুদানে আর কোনো অস্ত্র প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে, কারণ অপরাধগুলো এতটাই নৃশংস যে ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।’
সুদানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াসিন ইব্রাহিম দেশবাসীকে জনযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আরএসএফকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগের মধ্যে কাতারের আমিরও সতর্ক করে বলেছেন, এল-ফাশেরের বর্বরতা স্তম্ভিত করার মতো। তিনি যুদ্ধের অবসান এবং রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সুদানের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব অটুট থাকে।