সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদ ও কাঁকড়াসহ ৪ শিকারি আটক

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতায় বড় একটি সফলতা এসেছে। পূর্ব সুন্দরবনের মৃগামারী খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারের বিপুল পরিমাণ ফাঁদসহ চারজন পেশাদার শিকারিকে হাতেনাতে আটক করেছেন বনরক্ষীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বড় ডিঙি নৌকা, আড়াই মণ অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার ৫০টি নিষিদ্ধ বিশেষ ফাঁদ (চারু) জব্দ করা হয়েছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে আটক ব্যক্তিদের বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

যৌথ বাহিনীর ভোররাতের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস এই অভিযানের পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুন্দরবনে চলমান সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল লোক অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে বলে তাদের কাছে গোপন সংবাদ আসে। এই তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপাই ফরেস্ট স্টেশন ও আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রের বনরক্ষীদের সমন্বয়ে একটি যৌথ দল গঠন করা হয়।

শনিবার ভোররাতে বনরক্ষীদের এই বিশেষ দলটি মৃগামারী খালে ওত পেতে থাকে। শিকারিরা যখন তাদের নৌকা নিয়ে বনের গহীনে ঢোকার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ওই নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ হরিণ শিকারের সুতা দিয়ে তৈরি বিশেষ ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে সাতটি প্লাস্টিকের ঝুড়িতে রাখা আড়াই মণ জ্যান্ত কাঁকড়া এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ ৫০টি কাঁকড়া ধরার চারু বা চাই জব্দ করা হয়েছে।

আটক শিকারিদের পরিচয় ও অপরাধের ইতিহাস

বন বিভাগের পক্ষ থেকে আটককৃত চারজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন—বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চিলা গ্রামের ফরিদ হাওলাদার (৩০), আতাউর খান (২৮), মোজাম জোমাদ্দার (২৯) ও রুহুল জোমাদ্দার (৩০)। এদের মধ্যে ফরিদ হাওলাদার একজন চিহ্নিত এবং পেশাদার বন্যপ্রাণী শিকারি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। এর আগেও সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং হরিণ শিকারের দায়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক বন মামলা রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও আইনি ব্যবস্থা

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম হওয়ায় বর্তমানে পুরো সুন্দরবনে সব ধরনের মাছ ও কাঁকড়া আহরণের ওপর তিন মাসের কঠোর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়ে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের বনের ভেতরে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আটক ব্যক্তিরা কেবল অবৈধভাবে বনে ঢোকেনি, বরং তারা দেশের জাতীয় সম্পদ চিত্রা হরিণ শিকারের জন্য মারাত্মক ফাঁদ পেতেছিল। একই সঙ্গে তারা নিষিদ্ধ চারু ব্যবহার করে মা কাঁকড়াসহ আড়াই মণ কাঁকড়া ধরে বনের প্রতিবেশ ব্যবস্থার বড় ক্ষতি করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুন্দরবনের সুরক্ষায় এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।