খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
পবিত্র উমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। গত শনিবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে সৌদি আরবের জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি হঠাৎ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হওয়ায় তিনি এবং অন্যান্য যাত্রীরা ফ্লাইটে আসতে পারেননি।
মুশফিক এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। তবে উক্ত ফ্লাইট নিরাপত্তাজনিত কারণে জেদ্দায় ফেরত পাঠানো হয়। এতে হাজার হাজার যাত্রীসহ তিনি বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থার বর্ণনায় মুশফিক লিখেছিলেন, “আজ সকালে আমরা জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ইকে ০৮০৬ ফ্লাইটে রওনা দিয়েছি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে ফ্লাইটটি আবার জেদ্দায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমি এখানে হাজার হাজার যাত্রীর সঙ্গে অবস্থান করছি। আল্লাহই ভালো জানেন কবে এবং কীভাবে আমরা ঢাকায় ফিরব। সবাই দোয়া করবেন।”
বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুশফিক সুস্থ আছেন এবং তার দেশে ফেরার বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। ইতোমধ্যে আমার সাথে মুশফিকুর রহিমের কথাও হয়েছে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর আশা করছি আগামীকাল (সোমবার) সকালে তিনি দেশে ফিরতে পারবেন।”
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই ধরণের পরিস্থিতিতে বিদেশে আটকা পড়া অন্যান্য খেলোয়াড় ও বাংলাদেশিদের প্রতি সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি সবাইকে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে আসার শুভকামনা জানিয়েছেন।
নিচের টেবিলে সৌদি আরবে আটকা পড়া মুশফিকের পরিস্থিতি সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সৌদি আরব |
| উদ্দেশ্য | উমরাহ পালন |
| ফ্লাইট | এমিরেটস এয়ারলাইন্স EK 0806 |
| গন্তব্য | প্রথমে দুবাই, এরপর বাংলাদেশ |
| ফ্লাইট স্থগিতের কারণ | যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংঘাতজনিত নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি |
| বর্তমান অবস্থান | জেদ্দা বিমানবন্দর, হাজারো যাত্রীর সঙ্গে |
| স্বাস্থ্য অবস্থা | সুস্থ |
| প্রত্যাশিত দেশে ফেরা | সোমবার সকাল |
মুশফিকের এই পরিস্থিতি পুরো জাতির জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও প্রতিমন্ত্রীর তৎপরতা এবং ক্রিকেট বোর্ডের সমন্বয় আশার আলো দেখাচ্ছে। দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা এখন তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি সাধারণ যাত্রী ও ক্রীড়াবিদের ওপর পড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ অনেক যাত্রীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বর্তমানে মুশফিক এবং অন্যান্য আটকা পড়া বাংলাদেশিদের সুস্থ ও নিরাপদ দেশে ফেরার বিষয়টি সবার কাছে প্রার্থনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।