খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ২৩ লাখ নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। স্তন ক্যানসার বিশ্বের নারী স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। যদিও সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন, ইমিউনোথেরাপি এবং নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের জন্য টার্গেটেড থেরাপি আজ প্রায় সর্বত্র প্রয়োগ করা হয়, তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিটি চিকিৎসা সমানভাবে কার্যকর হয় না। চিকিৎসার ফলাফল মূলত ক্যানসারের ধরন, পর্যায় এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যভিত্তিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
সম্প্রতি ‘ক্লিনিক্যাল ক্যানসার রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় নতুন ধরনের ‘লিকুইড বায়োপসি’ পদ্ধতির ফলাফল সামনে এসেছে। এই পদ্ধতি অ্যাডভান্সড স্তন ক্যানসার রোগীদের মধ্যে নির্দিষ্ট থেরাপি কতটা কার্যকর হবে তা পূর্বাভাস দিতে সক্ষম।
গবেষকরা ‘প্লাজমাম্যাচ’ ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১৭৬ জন অ্যাডভান্সড স্তন ক্যানসার রোগীর রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করেন। মূলত তারা রক্তে ‘সার্কুলেটিং টিউমার ডিএনএ’ (ctDNA) শনাক্ত করেন, যা ক্যানসার কোষ থেকে নিঃসৃত ক্ষুদ্র ডিএনএ-র অংশ এবং রক্তপ্রবাহে ভেসে বেড়ায়।
রোগীদের স্তন ক্যানসারের ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে দুই দলে ভাগ করা হয়:
| দল | বৈশিষ্ট্য | সংখ্যা | cтDNA পর্যবেক্ষণ ফলাফল |
|---|---|---|---|
| প্রথম দল | ESR1, HER2, AKT1, AKT বা PTEN জিনগত পরিবর্তনযুক্ত | ৮৮ | চিকিৎসার ৪ সপ্তাহ পরে cтDNA অনুপস্থিত হলে PFS ১০.৬ মাস, উপস্থিত হলে ৩.৫ মাস |
| দ্বিতীয় দল | ট্রিপল নেগেটিভ, কোনো লক্ষ্যযোগ্য জিনগত পরিবর্তন নেই | ৮৮ | cтDNA কম থাকলে PFS ১০.২ মাস, বেশি থাকলে ৪.৪ মাস |
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম দলে যাদের রক্তে চার সপ্তাহের চিকিৎসা শেষে cтDNA নেই, তাদের ৪৬.২ শতাংশ রোগী চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। যারা cтDNA বেশি ছিল, তাদের ক্ষেত্রে সাফল্য মাত্র ৭.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় দলে এই অনুপাত যথাক্রমে ৪০ শতাংশ এবং ৯.৭ শতাংশ।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের ডা. আইসল্ট ব্রাউন বলেন, “cтDNA পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমরা আগেভাগেই বুঝতে পারি কোন রোগী নির্দিষ্ট থেরাপিতে সাড়া দেবেন। এটি মেটাস্ট্যাটিক স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ।”
ডা. রিচার্ড রেইথারম্যান, মেমোরিয়ালকেয়ার ব্রেস্ট সেন্টারের রেডিওলজিস্ট, বলেন, “মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসারে ক্যানসার যখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, তখন রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা আরও জটিল হয়। cтDNA পর্যবেক্ষণ এটি সহজ করে এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা দ্রুত অনুমান সম্ভব।”
ডা. রিচার্ড জেলকোভিটস, হার্টফোর্ড হেলথকেয়ার ক্যানসার ইনস্টিটিউট, বলেন, “যদি আমরা আগেভাগেই সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারি কোন রোগী চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন, তবে থেরাপি পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এটি আসল ‘গেম-চেঞ্জার’।
লিকুইড বায়োপসি এবং cтDNA পর্যবেক্ষণ স্তন ক্যানসারের অগ্রসর পর্যায়ের রোগীদের জন্য নতুন আশা জাগাচ্ছে। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসার ফলাফল নির্ধারণে নয়, বরং রোগীর জীবনমান ও চিকিৎসার কৌশল উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।