চট্টগ্রামে আট বছর আগে পাওয়া অর্ধগলিত এক লাশের রহস্য অবশেষে উন্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী নাজিম উদ্দিনকে হত্যা করেন স্ত্রী নাছিমা আক্তার। দীর্ঘ সময় পর সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পটভূমি
২০১৭ সালের ১৮ জুলাই চট্টগ্রামে একটি পরিত্যক্ত পুকুরপাড়ের ঝোপে পাওয়া যায় একটি বস্তাবন্দি অর্ধগলিত লাশ। পুকুরে দুর্গন্ধযুক্ত বস্তাটি দেখে প্রথমে স্থানীয়রা মৃত কুকুর ভেবে পাশের গর্তে ফেলে দেন। পরে শিশুরা লাশের হাড়গোড় দেখতে পেয়ে খবর দেয় পুলিশকে। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তবে খুনি বা হত্যার কারণ জানা যায়নি।
সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, ২০১৭ সালের ২১ মে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী নাজিম উদ্দিনকে চড় মারার পর পাল্টা ধাক্কা দেন স্ত্রী নাছিমা। এতে নাজিম দরজার চৌকাঠে মাথা লেগে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
লাশ গোপনের চাঞ্চল্যকর কৌশল:
স্বামীর লাশ কম্বল ও তোষকে মুড়িয়ে মুরগির খাবার ও মালামাল রাখার ঘরে সাত দিন লুকিয়ে রাখেন নাছিমা। ঘরে সুগন্ধি ছিটিয়ে রাখেন দুর্গন্ধ ঢাকতে। এরপর মেয়েদের নানার বাড়ি পাঠিয়ে সুযোগ বুঝে বস্তায় ভরে লাশ ফেলেন বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে। স্বামীর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রও পুড়িয়ে দেন।
সিআইডি জানায়, ঘটনার মূল সূত্র মেলে আবুল কালাম নামে এক অটোরিকশাচালকের মাধ্যমে, যিনি হত্যাকাণ্ডের পর মেয়েদের নানার বাড়ি পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে নাছিমা ও তার দেবর জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাছিমা জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। দেবর জসিমের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জানায় পুলিশ।
সিআইডির মন্তব্য:
সিআইডি চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা বলেন, “নাজিম উদ্দিনকে বিদেশ পাঠাতে স্ত্রী নাছিমা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশ থেকে ফিরে আসার পরও তিনি ঋণ শোধ করতে পারেননি, এতে আর্থিক টানাপোড়েন বাড়ে এবং দাম্পত্য কলহও তীব্র হয়। এই কলহই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।”
তদন্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন রাসেল বলেন, “প্রাথমিকভাবে হত্যার কোনো ক্লু না থাকলেও দীর্ঘ অনুসন্ধানে হত্যার জট খুলেছে। জসিমের ভূমিকাও আমরা খতিয়ে দেখছি, তার সহযোগিতায় লাশ গুম হতে পারে বলে সন্দেহ রয়েছে।



