খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
যশোরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার দায়ে জহিরুল ইসলাম ওরফে বাবু নামে এক যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৬ষ্ঠ আদালতের বিচারক জাকির হোসেন টিপু এ আদেশ দেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাবেরুল হক সাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বাবু যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর বিশ্বাসপাড়ার মশিউর বিশ্বাসের ছেলে।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, জহিরুল ইসলামের শ্বশুরবাড়ি অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা গ্রামে। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই দুপুরে তিনি স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথি (৩২) এবং দুই মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও সাফিয়াকে (২) নিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।
এর আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ফেরার পথে অভয়নগর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামে বাবু স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এরপর মরদেহগুলো যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে চেঙ্গুটিয়া এলাকার একটি বাগানে ফেলে রাখেন। পরে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানিয়ে নিজেই বসুন্দিয়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
ঘটনায় নিহত বিথির বাবা মুজিবর রহমান অভয়নগর থানায় মামলা করেন। তিনি মামলায় উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। যৌতুকের দাবিতে বিথিকে মারধর করতেন বাবু। একপর্যায়ে তাকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়। তারপরও নির্যাতন থামেনি।
ঘটনার দিনও ঝগড়া এবং মারধর করা হয় বিথিকে। বাড়িতে নেওয়ার পথে বিথিকে দুই মেয়ের সাথে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বাবু।
মামলায় অভয়নগর থানার এসআই গোলাম হোসেন ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার এ মামলার রায়ে বাবুকে ফাঁসির আদেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের পিপি সাবেরুল হক সাবু বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত বাবু মাদকাসক্ত ছিলেন। ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক রায় ঘোষণা করেছেন।
খবরওয়ালা/শরিফ