খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) আয়োজিত “অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা” অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাধ্যমিক শিক্ষকদের চলমান ৫ দফা দাবি, বিশেষ করে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও এন্ট্রিপদে ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (ঢাকা অঞ্চল)–এর উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও ‘স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এন্ট্রিপদ নবম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মজিদ।
খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বলেন, “আঞ্চলিক উপপরিচালকদের ডিডিও ক্ষমতা কলেজ পর্যায়ে চলে যাওয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তাদের অধিকার খর্ব হয়েছে।”
সবুজবাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবদুস সালাম বলেন, “আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পরও শিক্ষকদের বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে শিক্ষক সমাজে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।”
মতিঝিলের থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মতপ্রকাশ করেন, “মাউশিতে কাজের চাপ এত বেশি যে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি। এতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হবে এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নত হবে।”
মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সময়মতো পদোন্নতি ও নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষক একই পদে থেকে অবসরে যাচ্ছেন, যা হতাশাজনক।’
অভিভাবক প্রতিনিধি মাসুদা জামান বলেন, “শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরও মানসম্মত শিক্ষা পাবে।” খিলগাঁও গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ হাওলাদার তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সামিউল জাওয়াদ বলেন, “শিক্ষকতা মহান পেশা। যদি শিক্ষকরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হন, তাহলে তারা আরও নিবেদিত হয়ে পাঠদানে মনোযোগী হবেন।”
সভাপতি ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা সবাই উচ্চশিক্ষিত। তাই তাদের এন্ট্রিপদ নবম গ্রেডে উন্নীত করা ও চারস্তরীয় পদসোপান বাস্তবায়ন এখন অতীব জরুরি। ন্যায্য এই দাবি পূরণ না হলে মেধাবীরা এই পেশায় আগ্রহ হারাবেন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসমাশিসের প্রধান সমন্বয়ক রেবেকা সুলতানা, বিভিন্ন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য মর্যাদা ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা গেলে মাধ্যমিক শিক্ষা আরও মানসম্মত ও ফলপ্রসূ হবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড