খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই মে ২০২৬, ১:১৮ পিএম
ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গ্বালিয়র বেঞ্চে সম্প্রতি একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং নজিরবিহীন পারিবারিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই সহোদর বোন আইনিভাবে তাদের স্বামী অদলবদল করার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ঘটনাটি আইনি অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে একটি হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) বা বন্দি প্রদর্শন মামলার মাধ্যমে। মধ্যপ্রদেশের দতিয়া জেলার এক ব্যক্তি আদালতের কাছে অভিযোগ করেন যে, তার স্ত্রী ও কন্যাকে তার ভায়রাভাই (স্ত্রীর বোনের স্বামী) অপহরণ করেছেন। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত দতিয়া পুলিশকে নির্দেশ দেয় যেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে সশরীরে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ উক্ত ব্যক্তিদের হাজির করলে মামলার মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায়। প্রাথমিক তদন্তে যেটিকে অপহরণ বলে মনে করা হয়েছিল, আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের পর সেটি একটি জটিল পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের অমিল হিসেবে সামনে আসে।
প্রথম বোনের বক্তব্য: তথাকথিত ‘অপহৃত’ নারী আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জানান যে, তাকে অপহরণ করা হয়নি। বরং তিনি স্বেচ্ছায় নিজের বোনের স্বামীর সঙ্গে চলে গেছেন এবং ভবিষ্যতে তার সঙ্গেই জীবন অতিবাহিত করতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান স্বামীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য চলছে এবং তিনি ইতোমধ্যেই বিবাহবিচ্ছেদের জন্য মামলা দায়ের করেছেন।
দ্বিতীয় বোনের অবস্থান: আশ্চর্যজনকভাবে, অপর বোনও আদালতে একই ধরনের ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনিও নিজের বর্তমান স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং তার বোনের স্বামীর সঙ্গে থাকতে সম্মতি জানান। দুই বোনই আদালতের কাছে আবেদন করেন যেন তাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে স্বামী অদলবদলের আইনগত অনুমতি প্রদান করা হয়।
মামলার শুনানি শেষে বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষই আইনত প্রাপ্তবয়স্ক এবং তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। যেহেতু দুই বোনই স্বেচ্ছায় তাদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করতে চাইছেন, তাই এখানে জোরপূর্বক অপহরণ বা কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়নি।
বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, এটি মূলত একটি জটিল পারিবারিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়। আদালত আরও জানায়, হেবিয়াস কর্পাস মামলাটি এখানে অকার্যকর কারণ কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটকে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ব্যক্তিগত ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ প্রদান করে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আদালতের নাম | মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট (গ্বালিয়র বেঞ্চ) |
| মামলার ধরন | হেবিয়াস কর্পাস (পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে চিহ্নিত) |
| মূল অভিযোগ | স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ |
| আবেদনকারী | দুই সহোদর বোন |
| আবেদনের উদ্দেশ্য | পারস্পরিক সম্মতিতে স্বামী অদলবদল |
| আদালতের সিদ্ধান্ত | মামলা খারিজ ও পারস্পরিক সমঝোতার পরামর্শ |
| আইনি অবস্থান | সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ফৌজদারি অপরাধ নয় |
এই ঘটনাটি ভারতের আইনি ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সাধারণত হেবিয়াস কর্পাস মামলা নিখোঁজ বা বন্দি ব্যক্তিদের উদ্ধারে ব্যবহৃত হলেও, এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ এবং বৈবাহিক জটিলতার এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার পরিধি সীমিত, যদি না সেখানে কোনো আইন লঙ্ঘন বা অপরাধ সংঘটিত হয়। বর্তমানে বিষয়টি দুই পরিবারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
মন্তব্য