খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে ২০২৬
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের অনুশীলন মাঠে সতীর্থ রবিনিও জুনিয়রকে মারধরের ঘটনায় অবশেষে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন মহাতারকা নেইমার। গত রবিবারের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সান্তোস শিবিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা নেইমারের দুঃখ প্রকাশ এবং দুই তারকার মধ্যকার সমঝোতার মাধ্যমে শান্ত হয়েছে। এই ঘটনার ফলে নেইমারের আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তারও অবসান ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুশীলন সেশনে নেইমারকে ড্রিবল করে কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড রবিনিও জুনিয়র। এতে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন নেইমার। মাঠেই দুই ফুটবলারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে নেইমার রবিনিও জুনিয়রের গায়ে হাত তোলেন। এই ঘটনার পর সান্তোসের কিংবদন্তি খেলোয়াড় রবিনিওর ছেলে রবিনিও জুনিয়র নেইমারের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন:
১. অপমানসূচক গালি দেওয়া।
২. ল্যাং মারা।
৩. চড় মারা।
ঘটনাটি কেবল মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ যদি নেইমারের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়, তবে ক্লাব ছাড়ার এবং চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন রবিনিও জুনিয়র। পরিস্থিতি বিবেচনায় সান্তোস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণাও দিয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে নেইমার ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে এবং তার প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে রবিনিও জুনিয়রের মা ভিভিয়ানের সঙ্গে দেখা করে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তবে জুনিয়রের ব্যবস্থাপনা দল দাবি করেছিল যে, নেইমারকে সবার সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সোমবার রাতে সান্তোসের অনুশীলন ক্যাম্পেই নেইমার ও রবিনিও জুনিয়র একসঙ্গে নৈশভোজ সারেন, যা বরফ গলার প্রথম ইঙ্গিত দেয়।
গতকাল রাতে কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো রেকোলেতার বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচটি ছিল এই বিতর্কের চূড়ান্ত অবসানের মঞ্চ। ১-১ গোলে ড্র হওয়া এই ম্যাচে সান্তোসের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। গোল করার পরপরই তিনি রবিনিও জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস প্রকাশ করেন, যা দর্শকদের আশ্বস্ত করে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান অভিযুক্ত | নেইমার (সান্তোস ফরোয়ার্ড) |
| অভিযোগকারী | রবিনিও জুনিয়র (১৮ বছর বয়সী সান্তোস ফরোয়ার্ড) |
| ঘটনার স্থান ও সময় | সান্তোসের অনুশীলন মাঠ, গত রবিবার |
| অভিযোগসমূহ | গালি দেওয়া, ল্যাং মারা এবং চড় মারা |
| সমাধানের মাধ্যম | ব্যক্তিগত ফোনে দুঃখ প্রকাশ, নৈশভোজ এবং মিক্সড জোনে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা |
| ম্যাচ ফলাফল | সান্তোস ১-১ দেপোর্তিভো রেকোলেতা (নেইমারের গোল) |
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেইমার নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “অনুশীলনে ভুল–বোঝাবুঝি থেকে আমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। তবে ঘটনার পরই আমি ক্ষমা চেয়েছি। ড্রেসিংরুমে আমাদের কথা হয়েছে এবং আমরা সব মিটিয়ে নিয়েছি। আমি একটু বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলেছি, বিষয়টি অন্যভাবে সামলানো যেত।”
তবে ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ বিষয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তিনি কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেন। তার মতে, দলের ভেতরের ছোট ঘটনাকে বাইরের মানুষ অতিরঞ্জিত করার সুযোগ খুঁজেছে।
বাবার দীর্ঘদিনের সতীর্থ এবং নিজের আদর্শ নেইমারের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ায় রবিনিও জুনিয়রও নমনীয় হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্লাবের বিরুদ্ধে দেওয়া আইনি নোটিশ তিনি প্রত্যাহার করে নেবেন। তিনি বলেন, “নেইমার আমার আদর্শ, ছোটবেলা থেকেই আমি তাঁর ভক্ত। এটা স্রেফ একটা ভুল ছিল এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। মানুষ অনেক আজেবাজে কথা বলছে যা সত্যি নয়।”
বর্তমানে ধর্ষণ মামলায় সাও পাওলোর লিমেইরা রিইন্টিগ্রেশন সেন্টারে সাজা ভোগ করছেন রবিনিও জুনিয়রের বাবা, সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রবিনিও। কারাগারের এক কর্মীর মাধ্যমে এই সংঘাতের কথা জানতে পেরে তিনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিনের বন্ধু নেইমারের হাতে নিজের ছেলের লাঞ্ছিত হওয়ার খবর শুনে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এখন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় তিনি স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সমঝোতার ফলে সান্তোস ক্লাব এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের আসন্ন বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, তার ইতি ঘটল। দুই খেলোয়াড়ই এখন ক্লাবের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।