খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে মাঘ ১৪৩২ | ২৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার জারুলবুনিয়া এলাকায় গত বছর ঘটে যাওয়া জসিম উদ্দিন হত্যা মামলায় বিপরীত ধারা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মামলার বাদী ছিলেন তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার, যে অভিযোগ করেছিলেন প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে কয়েক মাসের তদন্তে পুলিশ উল্টো চিত্র উদ্ধার করেছে—ঘটনাটি পরকীয়ার সম্পর্ক আড়াল করতে সাজানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারা প্রকাশিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেলিনা আক্তারকে পেকুয়া থানার পুলিশ কক্সবাজার শহরের পিটি স্কুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, তিনি এখন মূল আসামি হিসেবে ধরা হয়েছেন। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, হত্যার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি লুকানোর উদ্দেশ্যেই প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
ঘটনার সময়সূচি ও তদন্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | তদন্তের তথ্য | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১০ আগস্ট, ২০২৫ | রাতের সময় জারুলবুনিয়া সেগুন বাগিচায় জসিম উদ্দিন নিহত | রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন | প্রাথমিক হত্যার পর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন |
| ১১ আগস্ট, ২০২৫ | পেকুয়া থানায় সেলিনা আক্তার মামলা দায়ের | অভিযোগ: প্রতিবেশী হত্যা করেছে | তদন্তে অসংগতি লক্ষ্য করা হয় |
| ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ | নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত | মোবাইল কললিস্ট ও স্থানীয় সূত্র বিশ্লেষণ | পরকীয়ার সম্পর্ক উঠে আসে; নতুন মামলা দায়ের |
| ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | সেলিনা আক্তার গ্রেফতার | পিটি স্কুল এলাকা থেকে আটক | ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন আদালতে |
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিন নিহত হওয়ার রাতে তার স্ত্রী সেলিনার সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, জসিম বিষয়টি টের পান অথবা আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। এরপরই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়।
পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম বলেন, “প্রাথমিক মামলার তথ্য ও ঘটনার আলামত মিল না হওয়ায় আমরা বিকল্প দিকগুলো যাচাই করেছি। প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য বিশ্লেষণে সেলিনা আক্তারের দায় নিশ্চিত হয়েছে।”
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ কয়েকজন প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। তবে নতুন তদন্তে অসংগতি, প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও সুরক্ষা সূত্র যাচাই করে স্পষ্ট হয়, প্রাথমিক অভিযোগ বিভ্রান্তিমূলক ছিল। নতুন মামলায় সেলিনা আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তার পরকীয়া সঙ্গী আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।