খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২১ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলার মাটি, মানুষের প্রাণ আর খাঁটি অনুভূতির সুরবাহক ছিলেন আবদুর রহমান বয়াতি। তিনি লোকসঙ্গীতের অমলিন ঐতিহ্যকে নিজের বুকে ধারণ করেছেন, কণ্ঠে গেঁথেছেন এবং সুরে ছড়িয়ে দিয়েছেন দেশ-বিদেশের মানুষের হৃদয়ে।
১৯৩৬ সালের ২১ নভেম্বর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের দয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এই অসাধারণ শিল্পী। তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং দোতারার জাদুকর। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে তিনি পান একুশে পদক, যা তার শিল্পযাত্রাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
১৯৮২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব বাউল দল ‘আবদুর রহমান বয়াতি’, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাউল সঙ্গীতের প্রচার ও পরিচিতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। দোতারা, হারমোনিয়াম, খঞ্জনি, ভায়োলিন—যে কোনো বাদ্যযন্ত্রে তার সঙ্গীত ছোঁয়া ছিল অপূর্ব।
শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৪২টি দেশে তিনি বাংলার লোকসঙ্গীতের সৌরভ ছড়িয়েছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসের মঞ্চেও তিনি তার সুরের জাদু ছড়িয়ে দিয়েছেন—বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের ইতিহাসে এটি এক অনন্য অধ্যায়।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের বিশেষ গ্রেডের এই শিল্পীর প্রায় পাঁচশোর বেশি একক অ্যালবাম রয়েছে, যা সংখ্যায় যেমন বিস্ময়কর, মানে তেমনি চিরসবুজ।
তার অমর কিছু গান—
মন আমার দেহঘড়ি—সন্ধান করি কোন মিস্ত্রি বানাইয়াছে
আমি ভুলি ভুলি মনে করি প্রাণে ধৈর্য মানে না
আমার মাটির ঘরে ইঁদুর ঢুকেছে
মৃত্যুরই কথা কেন স্মরণ কর না
মা আমেনার কোলে ফুটল ফুল
ছেড়ে দে নৌকা মাঝি যাবো মদিনা
গানের পাশাপাশি ১৯৮৯ সালে ‘অসতী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও তিনি নজর কাড়েন।
তবে, ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট লোকসঙ্গীতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র অস্তমিত হন। কিন্তু তার গান, সুর এবং আত্মিক দর্শন আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে, বাংলার গ্রাম-গঞ্জে, বুকের ভেতর লালিত আবেগে।
যতদিন বাংলার লোকসঙ্গীত থাকবে, ততদিন স্মরণে জ্বলজ্বল করবেন আবদুর রহমান বয়াতি।
খবরওয়ালা/টিএসএন