খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে চৈত্র ১৪৩২ | ৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্য মানেই এক দীপ্ত নাম—বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি শুধু একজন উপন্যাসিক নন, তিনি বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক উপন্যাস ধারার প্রতিষ্ঠাতা এবং এক অনন্য চিন্তার পথিকৃৎ।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী রচনার মাধ্যমে তিনি যে আলোর শিখা প্রজ্বলিত করেছিলেন, তা আজও সমান উজ্জ্বল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা উপন্যাসের আধুনিক যাত্রা শুরু হয়—এই কারণেই তিনি ‘বাংলা উপন্যাসের জনক’ হিসেবে চিরস্মরণীয়।
শুধু সাহিত্য নয়, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন সমাজ ও ধর্মচিন্তার এক প্রজ্ঞাবান সংস্কারক। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং জাতিসত্তার গভীর অনুসন্ধান। বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি অর্জন করেন ‘সাহিত্য সম্রাট’ উপাধি।
১৮৩৮ সালের ২৬ জুন চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের একজন কর্মকর্তা। শৈশব থেকেই মেধাবী বঙ্কিমচন্দ্র শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন হুগলি কলেজ, প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৮৫৮ সালে আইনশাস্ত্রে স্নাতক শেষে তিনি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
তাঁর সাহিত্যজীবনে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তাঁর লেখনীতে যেমন ইংরেজ শাসনের প্রভাবের ছাপ রয়েছে, তেমনি রয়েছে স্বাধীনতার চেতনার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। তাঁরই সৃষ্টি অমর স্লোগান ‘বন্দেমাতরম’, যা স্থান পেয়েছে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এ—একটি রাজনৈতিক ও চেতনায় উজ্জ্বল রচনা।
বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ ১৪টি উপন্যাসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ, ইন্দিরা, রাধারাণী, চন্দ্রশেখর, রজনী, কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজসিংহ, দেবী চৌধুরাণী, সীতারাম, কৃষ্ণচরিত ও কমলাকান্তের দপ্তর। তাঁর ছদ্মনাম ‘কমলাকান্ত’ আজও সাহিত্যপ্রেমীদের হৃদয়ে জীবন্ত।
১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল, মাত্র ৫৬ বছর বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে এই মহান সাহিত্যিক ইহলোক ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি, তাঁর চিন্তা, তাঁর ভাষা—আজও বাঙালির মননে অম্লান।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।