খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ইরান সেখানে সম্ভাব্য সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে সমুদ্রপথে মাইন স্থাপন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রেক্ষাপটে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ বা পানির নিচে পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় যান মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৯ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যালি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বড় আকারের একটি সহায়ক জাহাজের মাধ্যমে এসব অত্যাধুনিক ড্রোন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে। এ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই মিশনের জন্য নির্বাচিত জাহাজটির নাম ‘আরএফএ লিমে বে’। প্রায় ৫৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই জাহাজটি মূলত একটি রসদবাহী সহায়ক নৌযান, যা সাধারণত সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র এবং সেনা পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিকে বিশেষভাবে রূপান্তর করা হচ্ছে, যাতে এটি পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন বহন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে ব্যবহৃত হতে যাওয়া ড্রোনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হবে। উন্নত সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে এগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ ও সমুদ্রতলের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারবে এবং মাইন চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। ফলে মানবজীবনের ঝুঁকি কমিয়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিপজ্জনক বিস্ফোরক অপসারণ সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়। তাই এই নৌপথে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতায় ব্রিটেনের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিচে হরমুজ প্রণালি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অবস্থান | পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সংযোগস্থল |
| বৈশ্বিক গুরুত্ব | বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ~২০% এই পথে পরিবাহিত |
| হুমকি | সমুদ্র মাইন ও সামরিক উত্তেজনা |
| ব্যবহৃত প্রযুক্তি | এআই-নিয়ন্ত্রিত আন্ডারওয়াটার ড্রোন |
| প্রধান জাহাজ | আরএফএ লিমে বে (৫৮০ ফুট) |
| সহযোগী দেশ | যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স |
এছাড়াও যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। এসব বাহিনীর দায়িত্ব হবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করা।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিনির্ভর এই সামরিক উদ্যোগ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।