খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান পূর্বে নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ অনুসরণ করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, ফলে এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি কেন্দ্রীয় পথ হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, অবরোধ অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ অত্যন্ত কম। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক জাহাজ এখনও এই পথ ব্যবহার করছে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কেবল নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করেই জাহাজ চলাচল করতে পারবে এবং যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই নীতিমালা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রস্তাবিত মানচিত্র ও দুটি নির্দিষ্ট নৌরুটের ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ঘোষণার পর ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানায়। একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকলে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে কিছু গণমাধ্যম সরকারের কাছ থেকে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে।
পরবর্তীতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি ইঙ্গিত করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ অনুসরণ করেই জাহাজ চলাচল করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, ইরানের বন্দরের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নিচে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বর্তমান শর্তসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | শর্ত |
|---|---|
| বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল | নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ অনুসরণ বাধ্যতামূলক |
| যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ |
| নৌপথ ব্যবহারের অনুমতি | ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল |
| নিরাপত্তা পরিস্থিতি | যাচাই সাপেক্ষে সীমিত চলাচল |
| অবরোধ পরিস্থিতি | অব্যাহত থাকলে প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা সম্ভাব্য |
বিশ্লেষক সংস্থাগুলো বলছে, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও সমুদ্রপথটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়। ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।