দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৯২ শিশু। এর মধ্যে ১৭৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, আর ৮১৯ জন আক্রান্ত হয়েছে হামের মতো উপসর্গে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই হিসাব পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুটির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৪৯ শিশু। অন্যদিকে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৩ শিশু।
গত কয়েক মাসে দেশে হামজনিত অসুস্থতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৮৪ শিশুর মধ্যে। একই সময়ে ১২ হাজার ৯৬৪ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সময় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৪৮ জনে।
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০ হাজার ৫২২ শিশু। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৬ হাজার ৮৪৪ জন।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকায় সময়মতো টিকা গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের সংক্রমণ কমাতে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে যেসব শিশুর টিকার ঘাটতি রয়েছে, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দাগ, চোখ লাল হওয়া, কাশি ও সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা, নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য