খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পৌরশহরের পাগলপাড়া এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট চলাকালে কনস্টেবল ইজাজুল হক এজাজকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১১টার দিকে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ একজন হামলাকারী কনস্টেবল এজাজের উপর চরম বর্বরতা প্রদর্শন করেন। হামলার সময় কনস্টেবল এজাজের আত্মরক্ষা চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি গুরুতর জখম হন।
স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত কনস্টেবল এজাজের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
পুলিশ রাতেই হামলাকারী রুহুল আমিন খান (৫৫)কে আটক করে। পরবর্তীতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পৌর শহর থেকে রুহুল আমিন খানের ছেলে লিয়ন খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। হালুয়াঘাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “আমরা মূল অভিযুক্ত রুহুল আমিন খান এবং তার ছেলে লিয়ন খানকে গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তকরণ কাজ চলমান। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি তুলেছেন। হালুয়াঘাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এড়ানোর জন্য সতর্কতা বাড়ানো হবে।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্য ও অভিযুক্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আহত ব্যক্তি | কনস্টেবল ইজাজুল হক এজাজ |
| আহতের চিকিৎসা | হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স → ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ |
| হামলাকারী | রুহুল আমিন খান (৫৫), লিয়ন খান (পুত্র) |
| ঘটনার স্থান | পাগলপাড়া, হালুয়াঘাট পৌরসভা |
| সময় | ২৩ জানুয়ারি, রাত প্রায় ১১টা |
| পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য | অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান: “মামলা প্রক্রিয়াধীন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার” |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | আতঙ্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি |
এ ঘটনায় হালুয়াঘাট থানাসহ জেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে চেকপোস্টে আরও বেশি জনবল মোতায়েন করা হবে এবং সিসিটিভি ও নজরদারি ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে। স্থানীয় মানুষরা আশা করছেন, দ্রুত ন্যায়বিচার হবে এবং এমন নৃশংস ঘটনা পুনরায় ঘটবে না।