হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ধ্বংস

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী চিকিৎসা সামগ্রী খোলা স্থানে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। রোগী, তাঁদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্সসহ উপস্থিত সবাই সাময়িকভাবে শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়ার সমস্যায় পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই ধ্বংস কার্যক্রম চলে। হাসপাতালের নতুন ভবনের কাছাকাছি খোলা জায়গায় আগুন জ্বালানো হলে দ্রুতই চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। নগরকান্দা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক স্বজন জানান, হঠাৎ করে চারদিকে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে চলাফেরা করতে দেখা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এসব সামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও ধ্বংস কমিটির সদস্যসচিব জানান, বহু বছর ধরে জমে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ব্যবহার অনুপযোগী চিকিৎসা সামগ্রী তালিকাভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ধ্বংস কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও ধ্বংস প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবন থেকে খুব কাছেই খোলা জায়গায় আগুন জ্বালানো হয়, যার ফলে ধোঁয়া সরাসরি চিকিৎসা এলাকা ও রোগী ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত কয়েকটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, কার্টনভর্তি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী, মাস্ক, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, পর্দা এবং অন্যান্য চিকিৎসা ও হাসপাতাল সরঞ্জাম পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এসব সামগ্রীর বড় একটি অংশ কয়েক বছর আগেই আমদানি করা হয়েছিল এবং নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

ধ্বংসকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

সামগ্রীর ধরন আনুমানিক পরিমাণ মন্তব্য
ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ
উচ্চ সুরক্ষা মাস্ক কয়েক হাজার ইউনিট ২০২০ সালে সংগ্রহিত
হাসপাতাল বিছানার চাদর উল্লেখযোগ্য সংখ্যা ব্যবহার অনুপযোগী
বালিশের কভার উল্লেখযোগ্য সংখ্যা পুরোনো ও নষ্ট
পর্দা ও কাপড়জাত সামগ্রী বড় পরিমাণ সংরক্ষণ অযোগ্য
অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী মোট ১৬ ধরনের প্রায় ৩৯ হাজারের বেশি ইউনিট

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মোট ১৬ ধরনের প্রায় ৩৯ হাজারের বেশি ইউনিট সামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও অনুমোদনপত্র তাৎক্ষণিকভাবে প্রদর্শন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ধ্বংস কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপস্থিত ছিল। ফায়ার সার্ভিসের একজন দায়িত্বশীল জানান, তারা কেবল আগুন যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে বিষয়ে সহায়তা করেছেন।

এদিকে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল খোলা জায়গায় চিকিৎসা বর্জ্য পোড়ানোকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ ব্যবস্থায় ধ্বংস করার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

স্থানীয় নাগরিক প্রতিনিধিরাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে এভাবে ধোঁয়াজনিত দূষণ সৃষ্টি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।