খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (CMSME) শিল্পখাতে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে এসএমই ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনঃঅর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারের ৩০০ কোটি টাকার ‘রিভলভিং ফান্ড’-এর আওতায় গৃহীত এই উদ্যোগ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিল্প খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ অপরিহার্য। সরকার উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চুক্তির আওতায় প্রাইম ব্যাংক যোগ্য উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করবে। ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। উদ্যোক্তারা ব্যবসার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী এই ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ চার বছর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। এতে নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসা শুরু করে আয় অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।
এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সামাজিক সমতা নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তা, তরুণ আইসিটি উদ্ভাবক, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনকারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিল্প ক্লাস্টারভিত্তিক উদ্যোক্তাদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| তহবিলের পরিমাণ | ৩০০ কোটি টাকা (রিভলভিং ফান্ড) |
| সর্বোচ্চ সুদহার | ৮ শতাংশ বার্ষিক |
| ঋণের সীমা | ১ লাখ – ২৫ লাখ টাকা |
| পরিশোধ সময় | সর্বোচ্চ ৪ বছর |
| গ্রেস পিরিয়ড | ৬ মাস |
| জামানত | ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ |
| বিশেষ অগ্রাধিকার | নারী, তরুণ উদ্যোক্তা, ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্প |
১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা আনুষ্ঠানিক জামানত লাগবে না, যা নতুন ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ চৌধুরী বলেন, এই অংশীদারিত্ব কেবল ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নয়; বরং এটি দেশের উৎপাদন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
তারা আরও জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণই নয়, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানিমুখী শিল্প বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করা হবে। বিদেশফেরত প্রবাসীদেরও উৎপাদনমুখী খাতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে CMSME খাত মোট শিল্প কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। সহজ ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শহর-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক চাপও কিছুটা কমবে।
সব মিলিয়ে এই চুক্তি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন