খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুইজনের অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তারা তাদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব পাননি। সংস্থাটি এটিকে গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বর্তমানে কারাগারে আছেন। তিনি প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে সাজা কমিয়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির ডেপুটি এশিয়া ডিরেক্টর মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘হাসিনার শাসনামলের উপর বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে, কিন্তু তবুও সকল ফৌজদারি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মেনে চলা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করে নির্যাতনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করা জরুরি।’
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রশাসনের নির্যাতনের দায়ীদের যথাযথভাবে জবাবদিহি করা প্রয়োজন। এই মৃত্যুদণ্ডের রায় সঠিক বিচার নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াবে বলে সংস্থাটি মনে করছে।
এইচআরডব্লিউ জানাচ্ছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার কার্যালয় ও বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ‘মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় সহায়তা করার লক্ষ্যে’ দেশে একটি মিশন খোলার জন্য তিন বছরের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। সংস্থার মতে, এই ধরনের সহায়তার জন্য মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ থাকা জরুরি।
সোমবার খুনি হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। এছাড়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই রায়কে ‘সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত হয়নি’ বলে দাবি করেছে এবং প্রতিবেশি দেশ ভারতও বিবৃতি দিয়েছে। বর্তমানে হাসিনা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন, তাই তিনি ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারছেন না।
এর আগে সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং বাকি দুইটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন