খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৩ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সেনাবাহিনীর ১৫ জন কর্মরত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এ ঘটনায় সেনা হেফাজতে থাকা কর্মকর্তাদের পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত শনিবার সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কেউ চার্জশিটভুক্ত হলেই অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, বিচার চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা সেনা হেফাজতেই থাকবেন নাকি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তবে সেনানিবাসের একটি ভবনকে কারাগার ঘোষণা করায় ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সেখানেই রাখা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের পুলিশের মাধ্যমেই আদালতে হাজির করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী হবে। বিচার চলাকালীন তাদের আদালতে হাজির হতে হবে।’
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর আদালত চাইলে তাদের ট্রাইব্যুনাল জেলে পাঠাতে পারে বা জামিনও দিতে পারে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
এরপর ১১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী জানায়, অভিযুক্তদের মধ্যে ১৫ জন কর্মরত, নয়জন অবসরপ্রাপ্ত এবং একজন এলপিআরে আছেন। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৫ জন কর্মরত কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
এর মধ্যে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪১(১) এবং দি প্রিজন অ্যাক্ট এর ধারা ৩(বি) অনুসারে ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর পাশে অবস্থিত এমইএস ভবন নং-৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই ঘোষণা অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ভবনটি হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের জন্যই নির্ধারিত কিনা, তা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, গত ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ২২ অক্টোবরের মধ্যে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সেনাবাহিনী ১৫ জন কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ‘অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পরবর্তী ধাপে অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে। অভিযোগ গঠন হলে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন ও যুক্তিতর্কের পর রায় ঘোষণা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ আদালতে হাজির না হন বা পলাতক থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে এবং অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র তাদের পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করবে।’
গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটান্ট জেনারেল আরও জানান, ৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ১৬ জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মেজর জেনারেল কবির আহম্মদ ব্যতীত সবাই হেফাজতে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘মেজর জেনারেল কবির আহম্মদ নয় তারিখে বাসা থেকে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে বের হন। এরপর থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। তাকে ইললিগ্যাল অ্যাবসেন্ট ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তাকে যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনায় তার গ্রামের বাড়িতেও লোক পাঠানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলছে, আইসিটি আইন অনুযায়ী কেউ অনুপস্থিত থাকলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে। বর্তমানে একই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিচারও চলছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
খবরওয়ালা/এন