খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৭ এএম
দেশের সংসদীয় রাজনীতির ধারাবাহিকতায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের আগেই এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসুদ এই পরিকল্পনার কথা জানান।
বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনে পুনঃতফসিল পরবর্তী ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ কৌতুহল ছিল। নির্বাচন কমিশনার জানান, কমিশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৪ এপ্রিলের সময়সীমা বেছে নেওয়ার পেছনে একটি বিশেষ কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন:
“সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি বা পহেলা বৈশাখের সময় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার আগেই আমরা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই যাতে ভোটারদের কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়।”
নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে যারা কর্মস্থল বা প্রবাসে থাকার কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে পারবেন না, তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
| নির্বাচনী এলাকা | বর্তমান স্থিতি | ব্যালট সংক্রান্ত তথ্য |
| শেরপুর-৩ | পুনঃতফসিল পরবর্তী ভোট | পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। |
| বগুড়া-৬ | উপনির্বাচন | প্রবাসীদের জন্য নতুন করে ব্যালট পাঠানো হবে। |
| লক্ষ্যমাত্রা | ১৪ এপ্রিলের মধ্যে | প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে দ্রুত আয়োজনের পরিকল্পনা। |
সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাসুদ জানান, আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে। দলগুলোর আনুপাতিক হার অনুযায়ী মনোনীত ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হবেন, যা কমিশন আনুষ্ঠানিক তফশিলের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের বিধান থাকবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারিকৃত অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলীয় প্রতীকের বিধান বাতিল করা হয়েছিল। তবে এই অধ্যাদেশটি স্থায়ী আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে তা অনুমোদিত (Ratify) হতে হবে।
ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কমিশন বর্তমানে সংসদীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি সংসদ অধ্যাদেশটি অনুমোদন করে, তবে নির্দলীয় পদ্ধতিতে ভোট হবে। আর যদি সংসদ এটি বাতিল করে আগের আইনে ফিরে যায়, তবে দলীয় প্রতীকেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আইনি এই জটিলতা নিরসন হওয়া মাত্রই ঢাকার দুই সিটির ভোটের তোড়জোড় শুরু করবে কমিশন। মূলত ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য