খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খ্যাতিমান আসামি খান আকরাম হোসেনকে সর্বোচ্চ আদালত খালাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
মামলার পটভূমি অনুসারে, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটির প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় খান আকরাম হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। মামলার তৃতীয় আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ের দিন ধার্য থাকায় সকালেই ট্রাইব্যুনালে সিরাজ এবং আকরাম উপস্থিত ছিলেন। আদালত পর্যালোচনা করে দেখেছে, মোট তিনজন আসামির মধ্যে সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হয়েছে, আর আকরামের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটিই প্রমাণিত। এর ভিত্তিতে সিরাজকে ফাঁসির দড়িতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয় এবং আকরামের আপিলের প্রেক্ষিতে আজকের সিদ্ধান্তে তাঁকে খালাস করা হয়।
নিচের টেবিলে মামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| আসামির নাম | অভিযোগের সংখ্যা | প্রমাণিত অভিযোগ | প্রাপ্ত সাজা | আপিলের ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| সিরাজুল হক (সিরাজ মাস্টার) | ৬ | ৫ | মৃত্যুদণ্ড | অপরিবর্তিত |
| খান আকরাম হোসেন | ৩ | ১ | আমৃত্যু কারাদণ্ড | খালাস |
| আবদুল লতিফ তালুকদার | ১ | ০ | বিচারাধীন | মৃত্যুর কারণে বাদ |
খান আকরামের খালাসের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জটিলতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার গতি একবারে প্রকাশ পায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় দেশের আইনি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধরা হবে, কারণ এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সঠিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর এই মামলা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। রায় ঘোষণার পরে পরিবার ও স্বজনরা আদালতের আদেশ মেনে নিয়েছেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা দৃঢ় হয়েছে।
মোটপক্ষে, এই খালাসের সিদ্ধান্ত ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে এবং দেশের আইনি ইতিহাসে তা দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।