খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
দেশের ১৯টি জেলায় আজ সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা পূর্বাভাসে এ সতর্কতা দেওয়া হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা এই দমকা হাওয়া দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু জেলা এতে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নৌযান চলাচলে প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ছোট নৌযান ও যাত্রীবাহী নৌকার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই ধরনের আবহাওয়াগত পরিবর্তন সাধারণত মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং স্থানীয় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে ঘটে থাকে। ফলে হঠাৎ করে ঝড়, বজ্রপাত এবং অল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত দেখা দিতে পারে।
নিচের তালিকায় উল্লেখ করা হলো কোন কোন জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে এবং সম্ভাব্য বাতাসের গতিবেগ কত হতে পারে—
| অঞ্চল/জেলা | সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি | বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ |
|---|---|---|
| রংপুর, দিনাজপুর | ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি | ৪৫–৬০ কিলোমিটার |
| রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া | দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি | ৪৫–৬০ কিলোমিটার |
| টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ | অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া | ৪৫–৬০ কিলোমিটার |
| যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর | বজ্রবৃষ্টি সম্ভাবনা | ৪৫–৬০ কিলোমিটার |
| মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল | ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি | ৪৫–৬০ কিলোমিটার |
| পটুয়াখালী, নোয়াখালী | দমকা হাওয়া | ৪৫–৬০ কিলোমিটার |
| কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট | বজ্রবৃষ্টি ও ঝড় | ৪৫–৬০ কিলোমিটার |
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। তাই খোলা জায়গায় অবস্থান না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ধাতব বস্তুর কাছাকাছি না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কৃষকদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টিতে সদ্য কাটা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ধান, সবজি এবং খোলা মাঠে রাখা শস্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে নতুন সতর্কতা জারি করা হতে পারে। নদীপথ ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।