দীর্ঘ ১০ বছর আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। অস্ত্র আইনের মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সোলাইমান হাওলাদারকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় চালানো বিশেষ অভিযানে শনিবার (২৯ আগস্ট) গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার সোলাইমান হাওলাদারের বয়স ৪১ বছর। তিনি বরিশালের মুলাদী উপজেলার জালালাবাদ লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৮-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। র্যাব-২-এর সহযোগিতায় র্যাব-৮-এর সদর কোম্পানির একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য যাচাই এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন উপায় কাজে লাগিয়ে সোলাইমানের অবস্থান শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল র্যাব-৮-এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শাহরিয়ার রিফাত অভি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোলাইমানের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর হাজারীবাগ থানায় ২০১৬ সালে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার বিচার শেষে আদালত তাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং পলাতক ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার রায় ঘোষণার পরও দীর্ঘ সময় গ্রেপ্তার না হওয়ায় সোলাইমান কোথায় অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি র্যাব। তবে তাকে গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান চালানো হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা পরে সোলাইমানকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-৮-এর অধিনায়কের কাছে একটি অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮ তার অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা যুক্ত করে শেষ পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর রাজধানীর মতো জনবহুল এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়ায় অভিযানের সফলতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আদালতে সাজা হওয়ার পর যারা দীর্ঘদিন পলাতক থাকে, তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর সোলাইমান হাওলাদারকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
অস্ত্র আইনের মামলায় আদালতের দেওয়া ২১ বছরের সাজা কার্যকর হওয়ার আগেই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন সোলাইমান। প্রায় এক দশক পর তার সেই পলাতক জীবন শেষ হলো রাজধানীতে র্যাবের অভিযানে। এখন আদালতের আদেশ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।



