খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে মাঘ ১৪৩২ | ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল আমদানের প্রেক্ষিতে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন। এই পদক্ষেপ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, “ভারত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।” আদেশ অনুযায়ী নয়াদিল্লি আগামী দশ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য কিনবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি রূপরেখা তৈরিতে যুক্ত হবে।
শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে কার্যকর হবে। ট্রাম্প এই আদেশ জারি করেছেন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্কের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। বিশেষভাবে উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি, উড়োজাহাজ, প্রযুক্তিপণ্য, মূল্যবান ধাতু ও কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করছে।
নিচের টেবিলে শুল্ক পরিবর্তনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| পণ্যের ধরন | পূর্বের শুল্ক হার | নতুন শুল্ক হার | কার্যকর সময়কাল |
|---|---|---|---|
| ভারতীয় সাধারণ পণ্য | ৫০% | ২৫% | সঙ্গে সঙ্গে |
| নির্দিষ্ট উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ | ৫০% | ১৮% | ধাপে ধাপে |
| অন্যান্য ভারতীয় রপ্তানি | ৫০% | ১৮% | ধাপে ধাপে |
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার মন্তব্য করেছেন, ১৮ শতাংশ শুল্ক হারের ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সুবিধা পাবেন। অন্য দেশগুলোর জন্য শুল্ক হার ১৯ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়েছে এবং ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় মোদিকে তাঁর “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এই নতুন পদক্ষেপ ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অবস্থান শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতায় পরিণত করবে।