খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 19শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় ২৮ ঘণ্টা পরও খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য মো. সাইফুল ইসলমের (৩০)। শনিবার (৩১ মে) দুপুরে ৩৯ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাইফুল ইসলামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চরশাহী গ্রামের গোপাল বাড়িতে। তিনি সিরাজুল ইসলাম ও রহিমা বেগমের একমাত্র ছেলে। বর্তমানে তিনি নোয়াখালী পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি জেলার বিভিন্ন থানায় প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন।
জানা গেছে, শনিবার দুপুর ৩টার দিকে ভাসানচর থেকে করিমবাজার ঘাটে ফেরার পথে ডুবচরের কাছে ট্রলারটির নিচের অংশ ফেটে যায়। এতে ট্রলারে পানি ঢুকে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। স্রোত ছিল অনেক বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, সাইফুল ইসলাম পানিতে ভেসে দূরে চলে গেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর মাঝি বলেন, আমরা মালামাল নিয়ে সকালে ভাসানচর যাই। ফেরার পথে হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হয়। এরপর ট্রলারে পানি ঢুকতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই ট্রলার উল্টে যায়। করিমবাজার ঘাট থেকে তিনটা ট্রলার গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে। গিয়াস উদ্দিন ও রোহিঙ্গা নারী হাসিনা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো সাইফুলসহ দুজন নিখোঁজ আছেন।
নিখোঁজ সাইফুলের বোন জান্নাতুল ফেরদাউস স্বপ্না বলেন, আমার ভাইকে না পেয়ে বাবা-মা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। ঈদের ছুটিতে সাত দিনের জন্য বাড়ি আসার কথা ছিল তাঁর। কুমিল্লায় বদলি হলেও এখনও বাড়ি আসেনি। এখনো কোনো খবর পাচ্ছি না।
ভাসানচর থানার ওসি মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, সাইফুল ইসলাম ২৭ মে রোহিঙ্গা রোগী নিয়ে ভাসানচরে গিয়েছিলেন। আবহাওয়া খারাপ থাকায় সেদিন ফিরে আসতে পারেননি। ফেরার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু মেঘনায় স্রোত অনেক বেশি আর আবহাওয়া ভালো না থাকায় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাইফুলের ব্যাগ, পোশাক আর আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা এখনো আশা ছাড়িনি।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পুলিশ সদস্য সাইফুল ইসলাম। ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
খবরওয়ালা/এইমইউ