খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রামে আলোচিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯০ ভরি স্বর্ণের বার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল। গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে একজন সাবেক এএসআই।
পুলিশের বরাত অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি ভোরে বায়েজিদ বোস্তামীর অক্সিজেন এলাকায় সবুজ দেবনাথ তার দুই সহযোগীকে নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন। আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মারধর করে ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন।
মামলা দায়ের করা হয় ৫ জানুয়ারি, পাঁচলাইশ মডেল থানায়। মামলার তদন্তে ডিবি (উত্তর) ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামি সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেল ছিল একটি সুজুকি জিক্সার।
গ্রেপ্তাররা এবং তাদের পরিচয় নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | বিশেষ পরিচয় / মন্তব্য |
|---|---|---|
| সুমন চন্দ্র দাস | ৪২ | সাবেক এএসআই, আগেও স্বর্ণ ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার |
| মো. মাসুদ রানা (বাইক বাবু) | ৩০ | মামলার আসামি |
| রফিকুল ইসলাম (ইমন) | ২২ | মামলার আসামি |
| রবি কুমার দাস | ৪০ | তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার |
| পান্না রানী দাস (দীপালী) | ৩৮ | সুমনের স্ত্রী, গ্রেপ্তার |
| বিবেক বনিক | ৪২ | স্বর্ণের গোপন তথ্যদাতা, গ্রেপ্তার |
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেছেন যে তার নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইটি সংঘটিত হয়। সুমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রবি কুমার দাস এবং তার স্ত্রী পান্না রানী দাসকে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিবেক বনিককে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিএমপির ডিবি (উত্তর) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন ২৯০ ভরি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
এ ঘটনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দেখিয়েছে, এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।