খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধর্ম অবমাননার নামে হামলার ঘটনা চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে আরও গভীর সংকটের ছবি তুলে ধরেছে। হিউম্যান রাইটস সেন্টার ফর বাংলাদেশ মোনিটরিং (এইচআরসিবিএম) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এই সময়সীমায় তারা ৭৩টি ধর্ম অবমাননার অভিযোগভিত্তিক ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনার মামলা হয়েছে, পাঁচটি ঘটনায় মামলা হয়নি, এবং বাকি ২৩টি ঘটনার তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিবেদনটি কয়েকটি নির্বাচিত ঘটনাকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো খুলনার দাকোপ থানার ঘটনা। ২৩ অক্টোবর পূর্বায়ন মণ্ডলকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এইচআরসিবিএমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসলে ফেসবুকে দেবী কালী সম্পর্কে কটূক্তি করেছিলেন আবদুর রহমান। পূর্বায়ন মণ্ডল শুধুমাত্র তার জবাব দিয়েছেন। যদিও আবদুর রহমান ধরাছোঁয়ার বাইরে, পূর্বায়ন এখনও কারাগারে রয়েছেন।
সংগঠনটি এই ধরনের অপব্যবহার রোধের জন্য আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। আইনজীবী লাকী বাছাড় Firstlightকে বলেছেন, ধর্ম অবমাননার নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিবেদনে শুধুমাত্র সরাসরি অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে যশোরের অভয়নগর উপজেলার বনগ্রামে শান্তি রানী ভদ্রের জমি থেকে জোরপূর্বক গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা। শান্তি রানী একজন বৃদ্ধ বিধবা, কিন্তু অভয়নগর থানায় অভিযোগ করার পরও এখনও এজাহার দায়ের করা হয়নি। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সংখ্যালঘুরা নিজেদের জমি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ঠাকুরগাঁওয়ে ২৭ নভেম্বর এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে কালো মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়েছে। এখনও সেই ছাত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাটি দেশের সংখ্যালঘু মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতার একটি বাস্তব চিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রতিবেদনের আলোকে দেখা যায় যে ধর্ম অবমাননার নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার সংকেত বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা জরুরি।