খবরওয়ালা মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামে পুলিশের ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। পটিয়া থানার ওসিকে প্রত্যাহার ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
বুধবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে নগরীর খুলশী এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জাকির হোসেন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সড়ক অবরোধের কারণে খুলশী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
সরেজমিনে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দেখা যায়, ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। পাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা ডিআইজিকে সামনে এসে কথা বলার আহ্বান জানান। এ সময় ডিআইজি কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব সাজ্জাদ হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত জুলাইয়ে যেভাবে আমাদের ওপর জুলুম চালানো হয়েছিল, একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে গতকাল (মঙ্গলবার) পটিয়ায়। এখনো পটিয়া থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়নি। আমরা ডিআইজির সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা ও সাড়ে ১১টায় পটিয়া থানার সামনে দুই দফায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুই পক্ষের দাবি অনুযায়ী কমপক্ষে ১৯ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে পটিয়ার শহীদ মিনার এলাকা থেকে ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেন আন্দোলনকারীরা এবং তাঁকে থানায় নিয়ে আসেন। কিন্তু তার নামে কোনো মামলা না থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ওই ছাত্রলীগ নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় আন্দোলনকারীরা পটিয়া থানা ঘেরাও করেন এবং চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেন।
পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে।
খবরওয়ালা/আরডি