খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজনই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার এই সময়সীমার মধ্যে দেশজুড়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ২৮৭ জন। সরকারি এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের শিশু স্বাস্থ্য খাতে হামের প্রাদুর্ভাবজনিত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২২১ জন শিশুর শরীরে হামের প্রাথমিক উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৬৬ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের রোগজীবাণু বা সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে ৭টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের ভৌগোলিক অবস্থান নিচে উল্লেখ করা হলো:
ঢাকা বিভাগ/শহর: ৪ জন শিশু (সর্বোচ্চ মৃত্যু)
চট্টগ্রাম বিভাগ: ১ জন শিশু
ময়মনসিংহ বিভাগ: ১ জন শিশু
খুলনা বিভাগ: ১ জন শিশু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংগৃহীত ও সংরক্ষিত রোগতাত্ত্বিক উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ১২ জনে। এই বিশাল সংখ্যক আক্রান্ত শিশুর মধ্যে তীব্র শারীরিক জটিলতার কারণে ৬৪ হাজার ২৬৩ জন শিশুকে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে মোট ৬০ হাজার ৮৪ জন শিশু সফলভাবে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে।
তবে এই দীর্ঘ সময়কালে মৃত্যুর পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৫২৯ জন শিশু। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম রোগ শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯১ জন শিশু। ফলে এই নির্দিষ্ট সময়সীমায় দেশে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ৬২০টি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
নিচের সারণিতে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি এবং চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক হাম পরিস্থিতির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ দাপ্তরিক হিসাব উপস্থাপন করা হলো:
| স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী খাতসমূহ | গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য ও উপাত্ত | ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট উপাত্ত |
| হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশুর সংখ্যা | ১,২২১ জন | ৭৯,০১২ জন |
| ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়া রোগী | ৬৬ জন | প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট নয় |
| সার্বিক আক্রান্তের সংখ্যা (উপসর্গ ও নিশ্চিত) | ১,২৮৭ জন | — |
| হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট শিশুর সংখ্যা | প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট নয় | ৬৪,২৬৩ জন |
| চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশু | — | ৬০,০৮৪ জন |
| হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা | ৭ জন | ৫২৯ জন |
| হাম নিশ্চিত শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু | ০ (শূন্য) | ৯১ জন |
| সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা (হাম ও উপসর্গ যৌথ) | ৭ জন | ৬২০ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর বিবরণ | মৃতের সংখ্যা |
| ঢাকা | ৪ জন |
| চট্টগ্রাম | ১ জন |
| ময়মনসিংহ | ১ জন |
| খুলনা | ১ জন |
| মোট ২৪ ঘণ্টার মৃত্যু | ৭ জন |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার এবং সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতাধীন হামের প্রতিষেধক নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।