খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে মাঘ ১৪৩২ | ১৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি বিশাল বিষ্ণু প্রতিমা উদ্ধার করেছে র্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল। ১১৮ কেজি ওজনের এই মহামূল্যবান কালো পাথরের মূর্তিটি পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুকুর মালিক সাদ্দাম মোল্লাকে (৩২) হাতে-নাতে আটক করা হয়েছে।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের বুড়াইচ মধ্যপাড়া গ্রামে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গ্রামটির একটি পুকুরপাড়ের ঘন ঝোপের মধ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রতিমাটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। র্যাবের আভিযানিক দল স্থানটি ঘেরাও করে তল্লাশি চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করে এবং এর হেফাজতকারী সাদ্দাম মোল্লাকে আটক করে। আটককৃত সাদ্দাম ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত সাদ্দাম র্যাবকে জানিয়েছেন যে, তিনি এই অমূল্য প্রত্নসম্পদটি অন্য একটি চক্রের কাছ থেকে মাত্র ৩০ লাখ টাকায় সংগ্রহ করেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে এটি প্রায় ৩ কোটি টাকায় বিক্রি করা। উচ্চমূল্যে বিক্রির দর কষাকষি চলাকালীন সময়েই র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়েন তিনি। যদিও র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরণের প্রত্নসম্পদের ঐতিহাসিক মূল্য আর্থিক মানদণ্ডে পরিমাপ করা কঠিন।
উদ্ধারকৃত প্রত্নসম্পদ ও অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্য:
| তথ্য বিভাজন | বিস্তারিত বিবরণ |
| উদ্ধারকৃত বস্তু | প্রাচীন বিষ্ণু প্রতিমা (কালো পাথর) |
| ওজন | ১১৮ কেজি (প্রায় ৩ মণ) |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | র্যাব-১০, ফরিদপুর ক্যাম্প |
| উদ্ধারের স্থান | বুড়াইচ মধ্যপাড়া, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর |
| আটককৃত ব্যক্তি | সাদ্দাম মোল্লা (৩২), পিতা: মৃত হাশেম মোল্লা |
| ক্রয় মূল্য (দাবি) | ৩০ লক্ষ টাকা |
| বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা | ৩ কোটি টাকা |
| বর্তমান অবস্থান | আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশি হেফাজত |
ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং এর গায়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ রয়েছে। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি আরও বলেন, ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি এটি অধিক মুনাফার আশায় মজুদ করেছিলেন।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, র্যাব বাদী হয়ে পুরাকীর্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। উদ্ধারকৃত প্রতিমাটি বর্তমানে থানা পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। মূর্তির প্রকৃত উপাদান এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মান যাচাইয়ের জন্য ঢাকা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি আসল কষ্টিপাথর কি না।
আটককৃত সাদ্দাম মোল্লাকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফরিদপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক পাচারকারী গ্রুপ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও র্যাব। এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রাচীন নিদর্শন রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে।