খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২১ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৩২ হাজারতম অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও পোষ্য কোটার সুবিধায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের মেয়ে।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে মাত্র ৪০ নম্বর পেয়ে তিনি প্রথমে বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগে ভর্তি হন। পরে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে জীববিজ্ঞান অনুষদে স্থানান্তরিত হন। অথচ চলতি বছর ওই অনুষদে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৫০৩৫তম মেধাক্রম পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পোষ্য কোটায় তিনজন ভর্তি হয়েছেন। উপাচার্যের মেয়ের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর শাখার কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের ছেলে (৩৯.৫০ নম্বর) এবং ইলেকট্রিশিয়ান আরিফ হোসেন সুমনের ছেলে (৫৩.৫০ নম্বর) জীববিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন কোটায় ভর্তি হয়েছেন মোট ২১ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর থেকেই শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধা ও পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার উপাচার্যের মেয়ের কোটায় ভর্তি হওয়াকে কেন্দ্র করে সেই দাবির পক্ষে নতুন করে আন্দোলনের ডাক উঠেছে।
ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা এতদিন লড়েছি, আজ সেই সংগ্রামের ফল কোথায়? শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের সন্তানরা নানা সুবিধা পাচ্ছে, অথচ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটা কি ন্যায়সংগত?’
এ বিষয়ে ভর্তি টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘নিয়ম মেনেই ভর্তি কার্যক্রম হয়েছে। ৩০ নম্বর পাস মার্ক অতিক্রম করলেই নির্ধারিত কোটা ব্যবহার করা যায়। উপাচার্যের মেয়ে কোনো বাড়তি সুবিধা পাননি।’
চলতি বছর কোটায় ভর্তি হওয়া অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—
‘এ’ ইউনিটে : প্রতিবন্ধী ৩ জন, হরিজন ও দলিত ১ জন।
‘বি’ ইউনিটে : মুক্তিযোদ্ধা ৪ জন, প্রতিবন্ধী ২ জন, হরিজন ও দলিত ১ জন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ১ জন।
‘সি’ ইউনিটে : ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ২ জন, বিকেএসপি ১ জন, মুক্তিযোদ্ধা ১ জন, হরিজন ও দলিত ১ জন, প্রতিবন্ধী ১ জন।
খবরওয়ালা/এন