খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর তানোরে মাত্র ২ বছরের শিশু সাজিদ ৩৫ ফুট গভীর সরু গর্তে পড়ে যাওয়ার নয় ঘণ্টা পার হলেও তাকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাত ৯টার পরও উদ্ধার অভিযান চলমান ছিল।
তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের ধানখেতে শিশুটির মা খড় তুলতে গেলে পাশেই খেলছিল ছোট্ট সাজিদ। খেলার এক পর্যায়ে তার অজান্তেই ৮ ইঞ্চি ব্যাসের সরু গর্তে পড়ে যায় সে। গভীর হওয়ায় এবং মুখ সরু থাকায় শিশুটি দ্রুত মাটির ৩৫ ফুট নিচে চলে যায়।
গর্তটি তৈরি হয়েছিল এক বছর আগে। স্থানীয় কৃষক কছির উদ্দিন তার জমিতে গভীর নলকূপ বসানোর জন্য বোরিং করলেও পানি না পাওয়ায় নলকূপ বসানো হয়নি। এরপর থেকে গর্তটি খোলাই পড়ে ছিল। দীর্ঘ এক বছরেও তা ভরাট করা হয়নি—যা আজকের এই দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের মোট তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। শিশুটিকে জীবিত রাখার জন্য গর্তের ভেতরে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে। গর্তের মুখ এতটাই সরু যে উদ্ধারকর্মীরা সরাসরি গর্তে নামতে পারছেন না। তাই গর্তের পাশ দিয়ে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করে একটি বিকল্প পথ তৈরি করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে মানুষের ভিড় ও শব্দের কারণে শিশুটির কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন,
“আমরা আসার আগেই স্থানীয়রা উদ্ধার চেষ্টা করেছিলেন। এতে কিছু মাটি গর্তে পড়ে গেছে, যা উদ্ধারকে জটিল করছে।”
তিনি আরও জানান,
“শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কেভেটর দিয়ে খনন চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে উদ্বেগ নিয়ে শিশুটির সর্বশেষ খবরের অপেক্ষা করছেন। সাজিদের বাবা রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবার গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| শিশুর নাম | সাজিদ |
| বয়স | ২ বছর |
| গর্তের ব্যাস | ৮ ইঞ্চি |
| গভীরতা | ৩৫ ফুট |
| ঘটনা সময় | বুধবার দুপুর সোয়া ১টা |
| উদ্ধার অভিযান চলমান | হ্যাঁ (নয় ঘণ্টা ধরে) |
| ইউনিট | ৩টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট |
| অক্সিজেন সরবরাহ | করা হচ্ছে |
| খনন কার্যক্রম | স্কেভেটর দিয়ে চলছে |
| গর্ত তৈরি করেছিলেন | কছির উদ্দিন |
| গর্ত কেন ছিল | গভীর নলকূপের অসম্পন্ন বোরিং |
গ্রামের মাঝখানে বছরের পর বছর ধরে এমন একটি খোলা, গভীর গর্ত পড়ে থাকা—গভীর দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসন ও জমির মালিকের অবহেলা মিলেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এখন সবার প্রার্থনা একটাই—ছোট্ট সাজিদ যেন দ্রুত, নিরাপদে উদ্ধার হয়।
উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের টিম মাঠেই অবস্থান করছে।