খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৪৫তম ব্যাচের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিখুঁত করতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডার পদে যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটার অধীনে সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের অর্জিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ এবং আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২-এর মাধ্যমে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের যোগ্যতার সত্যতা নিশ্চিতে এই সনদ যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ছক পূরণ করে প্রয়োজনীয় সকল সনদ ও রেকর্ডপত্র আগামী ২ মার্চের মধ্যে জমা দিতে হবে।
প্রার্থীরা তাদের কাগজপত্র দুটি উপায়ে জমা দিতে পারবেন:
১. সংশ্লিষ্ট শাখায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে।
২. সরকারি ডাকযোগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে।
নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ২ মার্চের পর প্রাপ্ত কোনো আবেদন বা নথিপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল গত বছরের ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়েছিল। দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে পিএসসি বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে। এই নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্য থেকেই কোটা সুবিধাপ্রাপ্তদের সনদ যাচাই করা হচ্ছে। নিচে ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সারণী আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| বিসিএস ব্যাচ | ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২ |
| মোট সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত | ১,৮০৭ জন |
| নির্দেশনার বিষয় | মুক্তিযোদ্ধা কোটার সনদ ও রেকর্ডপত্র জমা দেওয়া |
| কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ | ২ মার্চ, ২০২৬ |
| জমা দেওয়ার মাধ্যম | সরাসরি বা ডাকযোগে (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) |
| বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিসিএসের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার রোধ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদের অধিকার নিশ্চিত করাই এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। অনেক সময় ভুয়া সনদের মাধ্যমে কোটা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলার পথে অন্তরায়। তাই চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রার্থীদের দাখিলকৃত সনদসমূহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজ এবং অন্যান্য প্রামাণিক দলিলের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে।
সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন তাদের জমা দেওয়া কাগজপত্রের ফটোকপিগুলোর সত্যায়ন যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধার সাথে প্রার্থীর সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় উত্তরাধিকার সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যেন নির্ভুল থাকে। যদি কোনো প্রার্থীর দাখিলকৃত তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তবে তার সাময়িক সুপারিশ বাতিলসহ প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
পরিশেষে, ৪৫তম বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে যোগদানের অপেক্ষায় থাকা এই ১,৮০৭ জন প্রার্থীর জন্য সনদ যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। স্বচ্ছতা ও সততার সাথে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা দেশের জনপ্রশাসনে যোগ্য ও আদর্শবান কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।