রোজার সময় সুস্থ ও সতেজ থাকতে কীভাবে খাবেন

রমজানের আগমনের সঙ্গে শরীরে সুস্থতা বজায় রাখা একান্ত জরুরি। এই মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা ও আবহাওয়ার পরিবর্তন—যা শীত এবং গরমের মধ্যে কখনও কখনও অস্থির থাকে—মিলিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। তাই রোজার সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে স্বাস্থ্যহানি এড়ানো যায় এবং রোজা পালন সহজ হয়।

ভাজাপোড়ার ক্ষতিকর প্রভাব

ভাজাপোড়া বা ডিপ ফ্রাইড খাবার বাঙালিদের নাশতার প্রিয় হলেও, রোজার সময়ে এগুলো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়া শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ভাজাপোড়া–জাতীয় খাবার হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্থূলতা, টাইপ–২ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া এই ধরনের খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও কেমিক্যাল বা রঙ মেশানো থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

ডুবো তেলে ভাজা খাবার উচ্চ ক্যালরির হওয়ায়, স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্সফ্যাটের কারণে হৃদরোগ ও ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি হজমে সমস্যা, বুকজ্বালা এবং অম্লতা তৈরি করতে পারে।

ইফতারের খাবার কেমন হওয়া উচিত

ইফতারের সময় খাবার সহজপাচ্য এবং কম তেল-মসলাযুক্ত হওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে হঠাৎ ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়। তাই ইফতার শুরুতে খেজুর খাওয়া উচিত, যা শরীরে দ্রুত শক্তি যোগায়। এরপর ধীরে ধীরে পানি খেতে হবে।

ইফতারের সুপারিশকৃত খাদ্য:

  • ডাবের পানি, লেবুর পানি, মৌসুমি ফলের রস

  • চিয়া সিড, ইসবগুল ভুসি, তিসি মিশানো পানীয়

  • অঙ্কুরিত ছোলা, শসা, টমেটো, লেবু ও কাঁচা রসুন মিশিয়ে সালাদ

  • হালকা ডাল-মুরগি মিশিয়ে হালিম

  • টক দই, লাল চিড়া, ওটস, বার্লি, মৌসুমি ফল

  • সবজি-মুরগি মিশিয়ে স্যুপ

  • দুধ, সুজি বা সাবুদানা দিয়ে ফালুদা বা পুডিং

সাহরির খাবারের পরামর্শ

সাহরিতে সহজপাচ্য ও হজমে সুবিধাজনক খাবার গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। রাতের খাবার দুপুরের খাবারের পরিমাণের সমান হওয়া উচিত। লাল আটার রুটি বা ভাত, ডাল, সবজি, মাছ বা মাংস, ডিম এবং হালকা স্যুপ খাওয়া যেতে পারে। খাবারের পর টক দই খেলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনেও সহায়তা করে।

একটি আদর্শ সাহরি প্লেট হতে পারে চার ভাগে ভাগ করা:

অংশ খাদ্য তালিকা পরিমাণ/ভাগ
১ ও ২ মিশ্র সবজি দুই ভাগ
ভাত বা রুটি এক ভাগ
প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম) এক ভাগ
পানীয় দুধ, ওটস বা লাল চিড়া স্মুদি এক গ্লাস

চার–পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে খাদ্য হজম হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ও সুষম খাবার রোজার সময় শরীর সুস্থ রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে।

Tags :

সাফায়েত হোসেন | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।