খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা অঞ্চলে একটি আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি এই ঘোষণা দিয়েছেন, যা গাজার পুনর্গঠনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই ঘোষণা এসেছে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এ নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে। বোর্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজার পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। ইনফান্তিনো বলেন, “আমাদের শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা সড়ক পুনর্গঠন করতে হবে না, মানুষের আশা, আবেগ ও বিশ্বাসও পুনর্গঠন করতে হবে। ফুটবল সেই শক্তি দেয়।”
ফিফা জানিয়েছে, নতুন স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার দর্শক। একইসাথে সেখানে একটি ফিফা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় গাজায় ৫০টি ছোট ফুটবল মাঠ এবং ৫টি পূর্ণাঙ্গ মাঠও নির্মাণ করা হবে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, গাজা পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে। এছাড়া আরো ৯টি দেশ মোট ৭ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাঁচটি দেশ গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশনে সেনা পাঠানোর আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
যদিও গাজায় আলাদা কোনো জাতীয় ফুটবল দল নেই, ফিফা ১৯৯৮ সাল থেকে ফিলিস্তিনি দলকে গাজা ও পশ্চিম তীরকে প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নতুন স্টেডিয়ামটি কেবল খেলার জন্য নয়, স্থানীয় যুব সমাজের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
| 項目 | বিবরণ |
|---|---|
| স্টেডিয়াম ব্যয় | ৫০ মিলিয়ন ডলার |
| ধারণক্ষমতা | ২০,০০০ – ২৫,০০০ দর্শক |
| ফিফা একাডেমি | স্থাপন হবে |
| ছোট ফুটবল মাঠ | ৫০টি |
| পূর্ণাঙ্গ মাঠ | ৫টি |
| যুক্তরাষ্ট্র অনুদান | ১০ বিলিয়ন ডলার |
| অন্যান্য ৯ দেশের অনুদান | ৭ বিলিয়ন ডলার |
| সেনা প্রেরণের আগ্রহ | ৫টি দেশ |
| ফিলিস্তিনি দল স্বীকৃতি | ১৯৯৮ সাল থেকে |
ফিফার এই উদ্যোগ কেবল খেলাধুলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ নয়, এটি গাজার মানবিক ও সামাজিক পুনর্গঠন-কেও উৎসাহিত করবে। স্টেডিয়াম ও ফুটবল একাডেমির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।