খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
হরিয়ানার ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধার সংক্রান্ত একটি ঘটনায় জড়িত হয়ে আলোচনায় এসেছেন ডা. শাহীন সাঈদ নামক একজন নারী চিকিৎসক। কয়েকদিন আগেও তিনি ছিলেন একজন সাধারণ পেশাদার চিকিৎসক, কিন্তু তার সহকর্মীরা কখনও জানতে পারেননি, তার আসল পরিচয় কী ছিল। দিল্লি পুলিশ দাবি করছে, শাহীন সাঈদ গোপনে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) নারী শাখা গঠনে কাজ করছিলেন। তার নেতৃত্বে ভারতে এই সংগঠনের কার্যক্রম চলছিল, যা তাকে সন্দেহজনক করে তোলে।
পুলিশের অভিযোগে, শাহীন সাঈদ উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ের বাসিন্দা, এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ফরিদাবাদের বিস্ফোরক উদ্ধারকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফরিদাবাদে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার আচরণ নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, শাহীন সাঈদ ছিলেন নিয়মিত শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী, তিনি হঠাৎ করে চলে যেতেন, এবং তার আচরণ ছিল কিছুটা অদ্ভুত। কলেজে অনেক মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসত, যা ছিল সন্দেহজনক।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা জাতীয় তদন্ত সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং শাহীন সাঈদের অতীত কর্মজীবন ও তার নথি পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, শাহীন সাঈদ পাকিস্তানে মাওলানা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের পরিচালিত ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ নামে জইশ-ই-মোহাম্মদের নারী শাখায় ভারতীয় শাখার দায়িত্বে ছিলেন। তার সংযুক্তি ছিল কাশ্মীরের চিকিৎসক মুজাম্মিল গণাই (ওরফে মুসাইব)-এর সঙ্গে, যাকে ফরিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তার ভাড়া করা কক্ষে বিশাল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করার পর।
এছাড়া, একটি মারুতি সুইফট গাড়ি যার নিবন্ধন ছিল শাহীন সাঈদের নামে, সেটি তল্লাশি চালিয়ে গণাইয়ের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা দাবি করছেন, এই ঘটনার সঙ্গে দিল্লির লালকেল্লায় ঘটে যাওয়া আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে ৯ জন নিহত হয়।