খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোরের শিশিরবিন্দুর মতো স্বপ্ন নিয়ে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাসুপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া আসাদুল্লাহ আল গালিব আজ ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বে লাখ ডলারের নায়ক। যে হাতে একসময় লাঙল ধরা বাবার কষ্টের ঘাম মুছে দেওয়ার সংকল্প ছিল, সেই হাত আজ ধরেছে বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের স্বীকৃতি। এটি শুধু একজন প্রকৌশলীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি এক তরুণের অধ্যবসায়, প্রতিভা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের মহাকাব্য।
গালিবের পরিবার ছিল সাধারণ কৃষক পরিবার। বাবা মো. আবদুস সামাদ মণ্ডল ও মা আয়েশা বেগম সংসার চালাতেন কৃষিকাজ ও সীমিত আয়ের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলা থেকেই গালিব ছিলেন মেধাবী, ২০১২ সালে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ–৫ পেয়ে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ভর্তি হন। তবে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনি নাশতা বাদ দিয়ে প্রতিদিন ৩০ টাকা বাঁচানোর লড়াই শুরু করেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্মস্থান | পুঠিয়া, রাজশাহী |
| পরিবার | কৃষক পরিবার |
| প্রাথমিক শিক্ষা | স্থানীয় বিদ্যালয় |
| মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক | রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল |
| কুয়েট ভর্তি | ২০১৪, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং |
প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি দুপুরের খাবার ও টিউশনির মাধ্যমে পরিবারে আর্থিক সহায়তা করতেন। স্কুলজীবনের সহপাঠী হীরা খাতুনকে বিয়ে করেন এবং সংসারের দায়ভার বেড়ে যায়। এই সীমিত অর্থের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন—কিছু বড় করার সংকল্প নিয়েছিলেন।
প্রকৌশলের কঠিন পড়াশোনার পাশাপাশি গালিব নতুন কিছু করার ইচ্ছা মেলাতে থাকেন। বাবার দেওয়া পুরোনো ল্যাপটপে তিনি শিখতে থাকেন ডিজিটাল মার্কেটিং। এক বছর কঠোর অধ্যবসায় ও নামমাত্র পারিশ্রমিকে তিনি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করেন। ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বাড়াতে ছোটবেলার শিক্ষক আরাফাত হোসেনের কঠোর শাসন তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। প্রথম তিন ডলার আয়ের মুহূর্তে তিনি অনুভব করেন যেন হিমালয় জয় করেছেন।
গালিব কুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারে ইন্টার্নশিপ করেন। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করলেও তিনি সীমিত বেতন ও চার দেয়ালের মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব অনুভব করেন। সেই মুহূর্তে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নেন—চাকরি ত্যাগ করে ফ্রিল্যান্সিংকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।
| প্ল্যাটফর্ম | অর্জন |
|---|---|
| আপওয়ার্ক | টপ রেটেড প্লাস, এক লাখ ডলার আয় |
| ফাইভার | প্রো ভেরিফায়েড, ২০ হাজার ডলার আয় |
বর্তমানে গালিব মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করেন। তার দলে কাজ করছে ১০-১২ জন দক্ষ তরুণ। তিনি নিজের ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তুলেছেন, যা বিশ্ববাজারে সেবা দিচ্ছে। তার লক্ষ্য এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জন্য অবদান রাখা।
গালিব প্রথম আলোকে বলেন, “জিপিএ–৫ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামই শেষ কথা নয়। সততা, সঠিক মেন্টর নির্বাচন ও প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি থাকলে গ্রামের সাধারণ কৃষক পরিবার থেকেও বিশ্ব জয় করা সম্ভব। আমি চাইছি শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্যও।”
এই গল্প এক অনুপ্রেরণার নিদর্শন, যা প্রমাণ করে যে সংকল্প ও অধ্যবসায় থাকলে স্বপ্নকেও বাস্তবের আকার দেওয়া যায়।