খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের ঝাড়খণ্ডে সোমবার সন্ধ্যায় ফের এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মাঝ আকাশে যোগাযোগ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। বিমানটিতে থাকা সাতজন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি থেকে উড্ডয়ন করা বিমানটি মাত্র ২৩ মিনিট পর রাডার এবং এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) এর সঙ্গে সংযোগ হারায়। পরে চাতরা জেলার সিমারিয়া থানার এলাকায় বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, দুর্ঘটনা পালামৌ ও লাতেহারের মাঝামাঝি কোথাও ঘটেছে।
বিমানের ধরন ছিল বিচক্রাফট সি-৯০ মডেল, যা পরিচালনা করছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, কলকাতার সঙ্গে সংযোগের কিছু সময় পর রাত ৭টা ৩৪ মিনিটে বিমানটি রাডার থেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়।
বিমানে থাকা আরোহীদের তথ্য নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| আরোহীর ধরণ | নাম | বয়স/অবস্থা |
|---|---|---|
| পাইলট | বিবেক বিকাশ বিলাগত | অবিবাহিত, অভিজ্ঞ পাইলট |
| সহ-পাইলট | সর্বদীপ সিংহ | অভিজ্ঞ পাইলট |
| রোগী | অজানা (শরীরের ৬৩% পুড়ে গেছে) | ৪১ বছর, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন |
| চিকিৎসক | অজানা | রোগীর চিকিৎসা দায়িত্বে |
| প্যারামেডিক | দুইজন | বিমান-চিকিৎসা সহকারী |
| সহকারী | দুইজন | রোগীর সহায়তায় দায়িত্বে |
বিমানে ছিলেন দুই পাইলট, একজন চিকিৎসক, দুইজন প্যারামেডিক, দুইজন সহকারী এবং এক রোগী। রোগীর শরীরের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল।
ঝাড়খণ্ড জেলা প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, যান্ত্রিক ত্রুটি বা আবহাওয়ার পরিবর্তন দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা ভারতের আকাশপথে যাত্রা নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, জরুরি মেডিকেল ট্রান্সপোর্টে ব্যবহৃত বিমানগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিংকে আরও জোরদার করা জরুরি।